খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: জালিয়াতি রুখতে আবারও কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কাজের ক্ষেত্রে কোনওরকম কারচুপি যে মেনে নেওয়া হবে না, তা আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ২.৫ কোটিরও বেশি আধার কার্ড বাতিল (Aadhaar Card Cancelled) করা হয়েছে। এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছে আধার কর্তৃপক্ষ বা UIDAI। মূলত অনলাইন সাইবার অপরাধ এবং জালিয়াতি বন্ধ করতেই সরকার এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ সংসদে জানিয়েছেন যে, সরকার আড়াই কোটিরও বেশি মৃত ব্যক্তির আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। কারণ, কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর আধার সক্রিয় থাকলে পরিচয় চুরি এবং সরকারি প্রকল্পের অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মন্ত্রী এদিন আরও জানান, আধার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১.৩৪ বিলিয়ন সক্রিয় আধার নম্বর রয়েছে। আধার ডাটাবেসের সঠিক মান বজায় রাখতে UIDAI নিয়মিত কাজ করে চলেছে। সংসদে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর আধার নম্বরটি বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে পরিচয় জালিয়াতির ভয় থাকে। সাইবার অপরাধীরা সরকারি সুবিধা নিতে বা ব্যাংকিং জালিয়াতি (Banking Fraud) করার জন্য ওই মৃত ব্যক্তির আধার ব্যবহার করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই এখনও পর্যন্ত ২.৫ কোটিরও বেশি আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করেছে UIDAI।
সরকার আরও জানিয়েছে যে, আধার কার্ডের ঠিকানার সঙ্গে ব্যক্তির মৃত্যুর জায়গার মিল সবসময় থাকে না। তাই বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য মিলিয়ে দেখে তবেই আধার কার্ড বাতিলের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আধার কার্ডকে আরও সুরক্ষিত করতে সরকার নতুন কিছু প্রযুক্তিও নিয়ে এসেছে। যেমন, বায়োমেট্রিক লক এবং আনলক ফিচারের মাধ্যমে এখন কার্ডধারীরা তাঁদের আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির তথ্য লক করে রাখতে পারবেন। এর ফলে আধারের অপব্যবহার ঠেকানো সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে UIDAI জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ফেস অথেনটিকেশনে বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লেনদেনের সময় আসল ব্যক্তি উপস্থিত আছেন কি না তা বোঝা যাবে। কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়েছে, আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক তথ্য যেন কারও সাথে শেয়ার না করা হয়। এছাড়া আধার নম্বরগুলো এখন এনক্রিপ্ট করা অবস্থায় 'আধার ডেটা ভল্ট'-এ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি আধার সিকিউর QR কোড এবং অফলাইন ই-কেওয়াইসি (e-KYC) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
