খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডেস্ক: প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের নজর ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Union Budget 2026) পেশ করার সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর ঘোষণা করেছেন, যার ফলে অনেক কিছুই হতে চলেছে সস্তা। তবে উল্টোদিকে পকেট পুড়তে পারে মদ্যপায়ী বা ধূমপায়ীদের। মদের দাম বাড়ছে এবং ওষুধের দাম কমছে—এক নজরে দেখে নিন বাজেটের পর কোন জিনিসের দাম বাড়ল আর কোনটির কমল।
দাম বাড়ছে কোন জিনিসের? (What gets costlier)
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। ফলে গতকালের চেয়ে আজ থেকে নিম্নলিখিত জিনিসগুলির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে:- মদ: বাজেটের পর মদের দাম বাড়তে চলেছে।
- সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য: নেশার সামগ্রীর ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।
- কয়লা: শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম বাড়তে পারে।
- স্ক্র্যাপ বা ছাঁটের জিনিস: পুরনো লোহা বা ছাঁট জিনিসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
- নির্দিষ্ট কিছু খনিজ পদার্থ: আমদানি শুল্ক পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু খনিজ পদার্থের দাম বাড়বে।
সস্তা হচ্ছে কোন কোন জিনিস? (What gets cheaper)
- সাধারণ মধ্যবিত্ত ও অসুস্থ রোগীদের কথা মাথায় রেখে বাজেটে একগুচ্ছ জিনিসের দাম কমানো হয়েছে। এদিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর ফলে সস্তা হবে:
- ওষুধ (Medicines): ১৭ রকমের ক্যানসারের ওষুধ (Cancer Drugs) এবং সাত রকমের বিরল রোগের ওষুধের দাম একধাক্কায় কমছে।
- ইলেকট্রনিক্স (Electronics): মাইক্রোওয়েভ ওভেন, টিভির যন্ত্রাংশ, ক্যামেরা এবং ভিডিয়ো গেম তৈরির সরঞ্জাম সস্তা হবে।
- বিদেশ ভ্রমণ ও পড়াশোনা (Foreign Tour & Education): বিদেশ ভ্রমণের ট্যুর প্যাকেজ এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ কমবে।
- চামড়ার জিনিস (Leather Goods): জুতো বা ব্যাগের মতো লেদারের জিনিসের দাম কমতে চলেছে।
- সবুজ শক্তি (Green Energy): সোলার প্যানেল (Solar Panels) এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি (EV Batteries) সস্তা হবে।
- অন্যান্য: শাড়ি, সামুদ্রিক খাদ্য (Seafood), বিমানের যন্ত্রাংশ, কফি ও ভেন্ডিং মেশিন এবং সিএনজির সাথে মিশ্রিত জৈব জ্বালানি।
বাজেট নিয়ে কী বললেন অর্থমন্ত্রী?
সূত্রের খবর, এদিন নবমবারের জন্য বাজেট পেশ করে নির্মলা সীতারমণ দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল। তিনি বলেন, "ভারতীয় অর্থনীতিতে স্থিতি এসেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।" বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি দারিদ্র দূরীকরণ এবং কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জানা গিয়েছে, মধ্যবিত্তের হাতে বাড়তি টাকা রাখার জন্য এবারের বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তবে করদাতাদের বড় কোনো ছাড় না থাকলেও জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, গত ১২ বছরে দেশে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
