খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ হলো ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuva Sathi Scheme)। বর্তমানে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও জনমুখী করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের দীর্ঘ লাইন এড়াতে এবং প্রযুক্তির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইন মাধ্যমে নিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইচ্ছুক প্রার্থীরা এখন বাড়িতে বসেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে এই আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
আবেদনের প্রাথমিক যোগ্যতা ও বয়সসীমা:
এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। বিশেষত বয়সের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ম রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ০১/০৪/২০২৬ তারিখের হিসেবে অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদন পোর্টালে জন্মতারিখ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স গণনা করে নেবে। যদি বয়স নির্ধারিত সীমার কম বা বেশি হয়, তবে স্ক্রিনে লাল রঙের সতর্কবার্তা বা এরর মেসেজ (Error Message) দেখাবে এবং আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
অনলাইনে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে কিছু নথি স্ক্যান করে হাতের কাছে রাখা জরুরি। প্রতিটি ফাইলের সাইজ এবং ফরম্যাট সঠিক না হলে আপলোড করা সম্ভব হবে না।
১. পিডিএফ (PDF) ফরম্যাট (সর্বোচ্চ 300kbps): মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট বা সার্টিফিকেট, আধার কার্ড (Aadhar Card), ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক এবং কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate)।
২. জেপিজি (JPG/PNG) ফরম্যাট (সর্বোচ্চ 50kbps): আবেদনকারীর সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর (Signature)।
ধাপে ধাপে অনলাইন ফর্ম ফিলাপ পদ্ধতি (Registration Process):
প্রথমে নির্দিষ্ট পোর্টালে (https://apas.wb.gov.in/) গিয়ে ‘Apply Online’ বিভাগে নিজের মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এটি সফল হলেই মূল ফর্মটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। (প্রচুর পরিমাণে অনলাইনে আবেদনের জন্য আপাতত আবেদন শুধুই রাতে সচল রয়েছে, দিনে সেই লিংক বন্ধ রাখা হচ্ছে ওয়েবসাইট এর পক্ষ থেকে)
ফর্মে নিজের নাম, লিঙ্গ, জন্মতারিখ এবং জাতিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। মাধ্যমিকের নথিতে যে বানান আছে, ঠিক সেটিই ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। বিবাহিত মহিলারাও তাদের মাধ্যমিকের সময়কার নামই ব্যবহার করবেন। এছাড়া বাবা-মা এবং জীবনসঙ্গীর নাম উল্লেখ করতে হবে। এরপর জেলা, ব্লক বা মিউনিসিপ্যালিটি এবং পিনকোড সহ সম্পূর্ণ ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ পাস করা পরীক্ষার নাম, বোর্ড এবং রোল নম্বর দিতে হবে।
বর্তমান পেশার (Present Occupation) ঘরে পড়াশোনা করলে ‘Student’ এবং ছোটখাটো কাজ করলে ‘Self Employed’ নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আইএফএসসি (IFSC Code) ও অ্যাকাউন্ট নম্বর খুব সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। ফর্মের শেষ ধাপে অন্য কোনো সরকারি ভাতা (যেমন কন্যাশ্রী বা ঐক্যশ্রী) পাচ্ছেন কি না তা জানিয়ে সমস্ত ডকুমেন্ট আপলোড করে ‘Final Submit’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন সফল হলে একটি ‘Application ID’ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেক (Status Check) করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
