খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি, বিভাস দাস : রীতি মেনেই ১৫৫ তম বর্ষে পদার্পন করল বেলাকোবার দশদরগার দেবনাথ বাড়ির সর্বজনীন বাসন্তী পুজো। হয়ে উঠল সর্বধর্মের মিলনক্ষেত্র। কারণ এই পুজো উদ্বোধনে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান তিন ধর্মের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকেন। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি তথা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কিষাণ ক্ষেতমজদুরের সভাপতি দুলাল দেবনাথের বাড়ির এই পুজো বলে পরিচিত থাকলেও তিনি এই পুজোর রূপ সর্বজনীন দিয়েছেন। সময় সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার মহা ষষ্ঠীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পুজোর উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন তালমা - সারিয়াম রামকৃষ্ণ আশ্রমের স্বামীজি দেবানন্দ। সঙ্গে ছিলেন রুমি হুজুর, ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত, বৈকন্ঠ্যপুর রাজবাড়ীর প্রধান পুরোহিত শিবু ঘোষাল সহ অনান্যরা। এদিন দুর্গা রায় এবং তার সম্প্রদায়রা নাচ - গানের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে সূচনা করেন।
পাকিস্তানের রংপুরে পুজোটির সূচনা হয়েছিল। দেশভাগের পর দেবনাথ পরিবারের সৌজন্যে পুজোটি চলে আসে বেলাকোবার কাছে দশদরগায়। পূর্ব পুরুষের পরম্পরা ঐতিহ্য মেনে গত ১০ বছর ধরে এই পুজোর কাজ সামলে আসছে দুলাল দেবনাথ। এবছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। এদিকে ধারাবাহিকভাবে এই পুজোর প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন তালমার ভূপেন বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে প্রণয় বিশ্বাস। পুজো সামলে আসছেন পুরোহিত স্বপন ভট্টাচার্য ও বিমান চক্রবর্তী। এই পুজোয় পার্শ্ববর্তী গ্রাম মুদিপাড়া, ঘোষপাড়া, বানিয়াপাড়া, ডাঙ্গিপাড়া, ইত্যাদি এলাকার সর্দারপাড়ার বাসিন্দারা ভীড় জমায়। প্রতি বছরের মতো এবছর পুজো উদ্বোধনের পর এদিন একাধিক দুস্থ পরিবার ও বয়স্ক বৃদ্ধ - বৃদ্ধাদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেন দুলাল দেবনাথ।
দুলাল বাবু জানান, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই পুজো চলবে। পুজোর পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানেরও আয়োজনও করা হয়েছে। ভক্তি গীতি থেকে রবীন্দ্র সংগীত এর মতো অনুষ্ঠান চলবে। সেই সাথে ভক্তদের জন্য ভোগেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে দেবনাথ বাড়ির এই পুজোতে একাধিক সচেতনতা মূলক ব্যানার দেখা গিয়েছে। যেখানে পরিবেশ রক্ষার বার্তা থেকে শুরু করে বাল্য শ্রম, রোগ - জীবাণু এমনকি নারীদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া কথা ছিল।
এদিন ষষ্ঠীর দিন দেবনাথ বাড়ি ছিল বেশ জমজমাট। আত্মীয় স্বজনরা যেমন এসেছিলেন তেমনি দশদরগা এলাকারও গ্রামবাসিরা এই পুজোতে ভীড় জমান। বেলাকোবাতে দু একটা বাসন্তী পুজা হলেও দীর্ঘ বছর ধরে ঐতিহ্য ধরে আসছে দশদরগার বাসন্তী পুজো।
