খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, ডিজেলে ধার্য কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক (Excise Duty on Diesel) লিটার প্রতি ১০ টাকা থেকে কমিয়ে সরাসরি ‘শূন্য’ (০) করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোলের (Petrol Price) ক্ষেত্রেও এই শুল্ক লিটার প্রতি ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ টাকা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত থমকে গিয়েছে। এই বিশ্বজনীন সংকটের মোকাবিলা করতে এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক নিয়ম, ২০১৭-তে বড়সড় সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম ১৮ ও ১৯-এর বিধানে বদল এনে পেট্রোল, হাই-স্পিড ডিজেল (HSD) এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর কর কাঠামো নতুন করে সাজানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি (Oil PSUs) কিছুটা স্বস্তি পেলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম বজায় রাখা হয়েছে। এদিন জানা গিয়েছে:
রপ্তানি শুল্ক: রপ্তানি করা হাই-স্পিড ডিজেলের (HSD) ওপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) প্রতি লিটারে ১৮.৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পেট্রোল রপ্তানিতে এই শুল্ক শূন্য রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পেট্রোল রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ: নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ছাড় ও নিয়ম বজায় থাকবে।
বিদেশি বিমান সংস্থা: বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বেসিক আবগারি শুল্ক এবং কৃষি উপকর (AIDC) তুলে নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিমান জ্বালানির (ATF) ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হলেও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে তার কার্যকর হার কমিয়ে ২৯.৫ টাকা রাখা হয়েছে। তবে আমদানি করা এভিয়েশন ফুয়েলের ওপর থেকে অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি তুলে নেওয়ায় বিমান ভাড়ার ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই শুল্ক হ্রাসের ফলে ট্রাক ও গণপরিবহনের খরচ কমবে। যার সরাসরি সুফল মিলবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেলে এই কর ছাড় সাধারণ মানুষকে কতটা দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
