খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজনীতিতে অভিমান থাকে, কিন্তু আনুগত্য যে তার চেয়েও বড়— তা আরও একবার প্রমাণ করলেন জলপাইগুড়ির প্রবীণ তৃণমূল নেতা খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy)। দলের জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার যে ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছিলেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) একটি ফোনেই তা এখন অতীত। বৃহস্পতিবার খগেশ্বরবাবুর বাড়িতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভিড় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে কার্যত উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়।
খগেশ্বরবাবু জানান, গতকাল রাত সাড়ে দশটা নাগাদ স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেন। জানা গিয়েছে, নেত্রী তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, অভিভাবক হিসেবেই তাঁকে রাজগঞ্জে (Rajganj) নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। এদিন দিদির ফোন পেয়ে আপ্লুত প্রবীণ নেতা বলেন, "দিদি আমাকে ফোন করায় আমি কৃতজ্ঞ। আবেগতাড়িত হয়ে পদ ছাড়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু নেত্রী যা দায়িত্ব দেবেন, সেটাই করব। আমি তৃণমূলেই থাকছি।"
এদিন খগেশ্বর রায়ের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ (Mahua Gope), জেলা সহ-সভাপতি চন্দন ভৌমিক এবং ময়নাগুড়ির প্রার্থী রামমোহন রায়। প্রবীণ নেতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মহুয়া গোপ। তিনি বলেন, "খগেশ্বর দা আমাদের অভিভাবক।" এদিন খগেশ্বরবাবুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রকাশ্যে কেঁদে ফেলেন মহুয়া। তিনি ঘোষণা করেন, খগেশ্বর রায় দলের জেলা চেয়ারম্যান পদেই থাকছেন।
সব বিতর্ক সরিয়ে রেখে এদিন খগেশ্বর রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের জেতাতে তিনি কোনও খামতি রাখবেন না। সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের (Krishna Das) হয়ে যেমন তিনি প্রচার করবেন, তেমনই রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না দেবীর (Swapna Barman) হয়েও কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন। এদিন বাড়ির সামনে কর্মীদের উপস্থিতিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সেনাপতি এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
