খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি: বৃষ্টির জেরে বিঘার পর বিঘা জমির আলু নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার ধূপগুড়ি থেকে শুরু করে সদর ব্লক— সর্বত্রই ছবিটা কার্যত এক। লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কায় এখন দিশেহারা অন্নদাতারা।
সূত্রের খবর, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবার আলু চাষ করেছিলেন জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা। সবেমাত্র মাঠ থেকে আলু তোলার কাজ শুরু হয়েছিল, ঠিক সেই সময়ই নামে অকাল বৃষ্টি। এদিন সকালে জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি (Garalbari) এবং মোহিতনগর (Mohitnagar) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের আলু বৃষ্টির জলে পুরোপুরি ভিজে গিয়েছে। গতকাল রাতে আবার বানারহাট (Banarhat) এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে আলু ছাড়াও অন্যান্য রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চাষিদের অভিযোগ, সারারাত জমিতে জল জমে থাকায় আলুর গুণমান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁদের মতে, জল কাদা মাখা এই আলু কোনোভাবেই হিমঘরে (Cold Storage) রাখা সম্ভব নয়। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে জলের দরেই হয়তো ফসল বিক্রি করতে হবে। জানা যায়, সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ধূপগুড়ি (Dhupguri) এলাকার চাষিরা। সেখানে বিঘার পর বিঘা জমিতে এখনও জল দাঁড়িয়ে রয়েছে।
তবে বৃষ্টির হাত থেকে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ আলু রক্ষা করা যাবে, তা নিয়ে এখনও কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না কৃষকরা। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ হবে, সেই চিন্তাতেই এখন রাতের ঘুম উড়েছে তাঁদের। উত্তরবঙ্গের এই কৃষি বিপর্যয়ে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ এখন চাষিদের চোখেমুখে।
