খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) দোরগোড়ায়, আর তার আগেই রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র ডামাডোল। টানা চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy) টিকিট না পেয়ে এবার দলের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্ষুব্ধ এই বর্ষীয়ান নেতা বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলকে তিনি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রার্থী পরিবর্তন করা না হলে আগামীকালই তিনি নিজের ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন খগেশ্বর রায়ের নিশানায় ছিল ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক টাকার বিনিময়ে তাঁর নাম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। রাজগঞ্জের নতুন তৃণমূল প্রার্থী, অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে (Swapna Barman) নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। খগেশ্বরবাবুর দাবি, "রাজগঞ্জের মানুষ স্বপ্নাকে চেনেন না, তাঁর হার নিশ্চিত।" সূত্রের খবর, দল থেকে টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলায় তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেছেন বলেও দাবি করেছেন।
বিক্ষুব্ধ এই নেতার মান ভাঙাতে এদিন সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে উত্তরবঙ্গের তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বকে। খগেশ্বর রায়ের দাবি অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, সৌরভ চক্রবর্তী, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন এবং অর্ঘ্য রায়প্রধানরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁদের অনেকেই দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে দিয়ে তাঁকে ফোন করিয়ে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে খগেশ্বর রায় ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি, তাই তা গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না।
আগামী ২৪ ঘণ্টা রাজগঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। খগেশ্বর রায় কি নির্দল হিসেবে দাঁড়াবেন, নাকি দল তাঁর ক্ষোভ প্রশমন করতে পারবে—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
