খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় প্রদান করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, স্বল্পমেয়াদি কমিশনে কর্মরত মহিলা আধিকারিকদেরও সেনাবাহিনীতে (Indian Army) স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হওয়ার পূর্ণ সমানাধিকার রয়েছে। মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটি দিয়েছেন।
এদিন রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি জানান, শর্ট সার্ভিস কমিশনে নিযুক্ত মহিলা আধিকারিকদের স্থায়ী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা আসলে এক প্রকার ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’ (Institutional Discrimination)। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাহিনীর পুরুষ আধিকারিকেরা কখনোই আশা করতে পারেন না যে স্থায়ী কমিশনের পদগুলো শুধুমাত্র তাঁদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। যোগ্যতার নিরিখে মহিলারাও এখন থেকে সমঅধিকারের দাবিদার বলে জানানো হয়েছে।
মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত একটি বিশেষ ঘোষণা করেছে। জানা গিয়েছে, মামলা চলাকালীন যে সমস্ত মহিলা আধিকারিক ১৪ বছর কাজ করার পর অব্যাহতি নিয়েছেন, তাঁদের ২০ বছর কাজ করেছেন বলেই গণ্য করা হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা পূর্ণ পেনশন সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অতিরিক্ত সময়ের জন্য কোনো বকেয়া বেতন বা এরিয়ার দেওয়া হবে না। এটিকে একটি ‘এককালীন পদক্ষেপ’ (One-time measure) হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মহিলা আধিকারিকদের অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট (Annual Confidential Report) তৈরির ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে এদিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। সূত্রের খবর, মহিলারা কোনোদিন স্থায়ী নিয়োগ পাবেন না— এই ভ্রান্ত ধারণা থেকেই আগে দায়সারাভাবে রিপোর্ট তৈরি করা হতো। তবে এখন থেকে শারীরিক মাপকাঠি, শৃঙ্খলা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে স্থায়ী নিয়োগের (Permanent Commission) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
