খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি: রেলের চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলে যোগদানের জেরে চরম আইনি জটিলতায় পড়েছেন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)। বর্তমানে তাঁর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের (Calcutta High Court Jalpaiguri Circuit Bench) দ্বারস্থ হন তিনি। তবে আদালত তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিকেল ৫টার মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ইমেল করতে হবে।
২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জয়ের পর ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২০ সালে রেলের চাকরিতে যোগ দেন স্বপ্না বর্মন। তিনি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (Northeast Frontier Railway) আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে 'স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেকটর' পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী চাকুরিরত অবস্থায় সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন না।
সূত্রের খবর, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না বর্মন নিয়ম ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) যোগদান করেন এবং সাংবাদিক বৈঠকেও অংশ নেন। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনে রেল কর্তৃপক্ষ। গত ৯ মার্চ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ (Rajganj) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে স্বপ্নার নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে গত ১৬ মার্চ তিনি রেলের চাকরি থেকে অব্যাহতি (Resignation) চেয়ে আবেদন করলেও তা গৃহীত হয়নি। চাকুরিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আইনত অসম্ভব। এই জটিলতা কাটাতেই এদিন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়।
শুনানি চলাকালীন ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার প্রস্তাব দেন যে, স্বপ্নাকে তাঁর ভুল স্বীকার করতে হবে। আদালত নির্দেশ দেয়:
- মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে রেলকে ক্ষমা চেয়ে ইমেল পাঠাতে হবে।
- চাকরি থেকে অব্যাহতি চাইলে পেনশন বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা তিনি দাবি করতে পারবেন না।
- ক্ষমা চাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
স্বপ্নার আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী জানান, "ভোট লড়ার জন্য রেলের অব্যাহতি প্রয়োজন ছিল, যা না মেলায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালত ভুল স্বীকারের নির্দেশ দিয়েছে।" তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত স্বপ্না কোনো ইমেল পাঠিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার।
