খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) দামামা বাজার আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এক ধাক্কায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি (DGP West Bengal) পদ থেকে সরানো হয়েছে পীযূষ পাণ্ডেকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।
একই সঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP Kolkata) পদেও আনা হয়েছে বদল। সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় তিলোত্তমার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অজয় কুমার নন্দ। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ৩টের মধ্যেই নতুন আধিকারিকদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে।
পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে এই রদবদল কেবল ডিজি বা সিপি পদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সূত্রের খবর, এডিজি আইনশৃঙ্খলা (ADG Law and Order) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিনীত গোয়েলকে। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হলেন অজয় মুকুন্দ রাণাডে। পাশাপাশি, ডিজি কারেকশনাল সার্ভিসেস (DG Correctional Services) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এন আর বাবুকে।
নির্বাচনের আগে আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) অফিসারদের বদলি নতুন কিছু নয়। তবে, এবারের রদবদলের ক্ষেত্রে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রাজ্যের মুখ্যসচিব পরিবর্তন। টপ লেভেলের অফিসারদের এই রদবদলের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কার্যত পুলিশ প্রশাসনকে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গতকাল থেকেই এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে, ভোটের সময় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে কমিশন।
জানা যায়, মূলত এসআইআর (SIR) পর্ব থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সংঘাতের সূত্রপাত। রাজ্যের কয়েকজন অফিসারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই মর্মে পূর্বতন মুখ্যসচিবের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। মনোজ পন্থের অবসরের পর নন্দিনী চক্রবর্তী মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নিলে তাঁকেও তলব করে কমিশন। অর্থাৎ, একের পর এক ইস্যুতে রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত আজ এক চূড়ান্ত রূপ নিল।

