খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দ। ভোটের রণকৌশল সাজাতে এবং দলীয় কোন্দল মেটাতে মঙ্গলবার কলকাতায় পা রাখলেন বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। এদিন শহরে পৌঁছেই তিনি নিউটাউনের একটি বেসরকারি হোটেলে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেন বলে জানা গিয়েছে। মূলত প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দূর করা এবং আগামী দিনের প্রচারের রূপরেখা তৈরি করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে সূত্রের খবর।
মঙ্গলবার নিউটাউনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য, তাপস রায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রাহুল সিনহা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও বিপ্লব দেবের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এই আলোচনায় অংশ নেন। জানা যায়, প্রথম দুই দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে সল্টলেক দপ্তরে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা প্রশমিত করাই ছিল বৈঠকের অন্যতম মূল বিষয়। পাশাপাশি, West Bengal BJP Candidate List-এর তৃতীয় দফার নাম চূড়ান্ত করা এবং মোদি-শাহ-যোগীদের সভার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি নিয়েও আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দলের একাংশ কর্মী-সমর্থক ‘সেটিং’ ও ‘টাকার বিনিময়ে টিকিট’ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, বারবার পরাজিত প্রার্থীদের কেন পুনরায় সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? এদিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এই ক্ষোভ মেটাতে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কারণ, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যালট বক্সে।
বৈঠক শেষে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের শেষ লগ্নে প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-কে সামনে রেখে বড়সড় কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন কেন্দ্রে কোন হেভিওয়েট নেতাকে পাঠানো হলে সবথেকে বেশি নির্বাচনী ফায়দা মিলবে, তার একটি প্রাথমিক তালিকাও এদিন প্রস্তুত করা হয়। একদিকে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের মানভঞ্জন এবং অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে কড়া টক্কর দিতে আক্রমণাত্মক প্রচার—এই দুই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বঙ্গ-বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
