খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করা হলো। এদিন কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই ইস্তাহার প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, "এই সংকল্পপত্র বাংলাকে নিরাশা থেকে বের করে নতুন দিশা দেখাবে। এটি আসলে বিকশিত ভারতের (Viksit Bharat) রোডম্যাপ।" রবীন্দ্র জয়ন্তীতে নতুন বাংলা গঠনের ডাক দিয়ে মোট ১৫টি প্রধান সংকল্প গ্রহণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
সূত্রের খবর, এই ইস্তাহারে নারী সুরক্ষা, বেকার যুবক এবং কৃষি ও শিল্পের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ (Annapurna Scheme) চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। একইভাবে বেকার যুবকদের জন্যও মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজেপির প্রধান ১৫টি সংকল্প একনজরে:
১. অনুপ্রবেশে জ়িরো টল্যারেন্স (Zero Tolerance on Infiltration): বাংলায় অনুপ্রবেশ মুক্ত সরকার গড়া হবে। অমিত শাহ জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করা হবে।
২. মহিলাদের ৩ হাজার টাকা: রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
৩. চাকরি ও যুব ভাতা: আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বেকার যুবকদের মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
৪. দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড (Durga Suraksha Squad): নারী সুরক্ষায় বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটলিয়ন তৈরি হবে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এককালীন ২১ হাজার টাকা সহায়তা এবং সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে।
৫. সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission): সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।
৬. সিন্ডিকেট নির্মূল: রাজ্যের কাটমানি সংস্কৃতি ও সিন্ডিকেট রাজ সমূলে বিনাশ করা হবে।
৭. শ্বেতপত্র প্রকাশ: গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে।
৮. চাষিদের ন্যায্যমূল্য: ধান, আলু ও আম চাষিদের বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য (MSP) নিশ্চিত করা হবে।
৯. মৎস্য সম্পদ যোজনা: প্রতিটি মৎস্যজীবীকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং বাংলাকে মাছ রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
১০. চা ও পাট শিল্প: দার্জিলিং চায়ের গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্পের (Jute Industry) আধুনিকীকরণ করা হবে।
১১. অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC): রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে আইন আনা হবে এবং গবাদিপশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২. আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্য (Ayushman Bharat): রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। উত্তরবঙ্গে নতুন এইমস (AIIMS), আইআইটি (IIT) ও আইআইএম (IIM) ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে।
১৩. ভাষার মর্যাদা: সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।
১৪. বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা: রাজ্যে একটি বিশেষ বন্দে মাতরম মিউজিয়াম তৈরি করা হবে।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা: রাজ্যে প্রত্যেকের ধর্মাচরণে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হবে।
