খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
ডিজিটাল ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল যৌথবাহিনী। কাঙ্কের জেলার গভীর জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে কুখ্যাত মাওবাদী নেত্রী রুপি। জানা গিয়েছে, রুপি মাওবাদী সংগঠনের এরিয়া কমিটি মেম্বার (ACM) পদে কর্মরত ছিলেন। এই হাই-প্রোফাইল এনকাউন্টারের (Maoist Encounter) পর পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে মাওবাদী ক্যাডারদের।
সূত্রের খবর, কাঙ্কের জেলার ছোটবেঠিয়া-প্রতাপপুর থানা এলাকার অন্তর্গত মচপল্লী, অরামঝোরা এবং হিড়ুর বেল্টে একদল সশস্ত্র মাওবাদী আত্মগোপন করে আছে বলে খবর পায় পুলিশ। এদিন নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দল ওই এলাকায় চিরুনি তল্লাশি (Search Operation) শুরু করে।
অভিযান চলাকালীন মচপল্লী এলাকায় পৌঁছাতেই জঙ্গলে ওত পেতে থাকা মাওবাদীরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালাতে থাকে। পাল্টা জবাব দেয় যৌথবাহিনীও। দীর্ঘক্ষণ দু-পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলার পর এলাকাটি শান্ত হয়। এরপর ওই জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এক নারী মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শনাক্তকরণের পর জানা যায়, মৃত ওই নারীই মাওবাদী নেত্রী রুপি।
জানা গিয়েছে, রুপি মাওবাদী সংগঠনে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রী ছিলেন। তিনি দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির (DKSZC) শীর্ষ নেতা বিজয় রেড্ডির স্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে মানপুর-মহলা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয়েছিল বিজয়। রুপি ছিলেন বস্তার অঞ্চলে সক্রিয় থাকা হাতেগোনা কয়েকজন তেলুগু বংশোদ্ভূত মাওবাদী ক্যাডারের মধ্যে অন্যতম। বারবার আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি হিংসার পথ ছাড়েননি।
ঘটনার পর পুলিশ ওই এলাকা থেকে একটি পিস্তল, প্রচুর কার্তুজ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নথি উদ্ধার করেছে। কাঙ্কেরের পুলিশ সুপার নিখিল রাখেচা জানান, সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পত্তিলিঙ্গম কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, "সরকার মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে। অনেকে সুস্থ জীবনে ফিরেছেন, তবে যারা এখনও হিংসার পথ আঁকড়ে থাকবে, তাদের এই একই পরিণতি হবে।" পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় বর্তমানে মাত্র ১০-১২ জন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি জারি রাখা হয়েছে।
