খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে অস্থির পরিস্থিতি। তবে এই প্রভাবকে প্রশমিত করতে ভারতের শিল্প সেক্টরের (Industry Sector) জন্য বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। জানা গিয়েছে, দেশের কোম্পানিগুলির জন্য ঋণ প্রাপ্তি সহজতর করতে একটি নতুন ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম (Credit Guarantee Scheme) তৈরি করছে কেন্দ্র। বিশেষ করে কাঁচামাল এবং পরিবহণ খরচের বৃদ্ধির মোকাবিলা করছে যে সমস্ত কোম্পানি, তারাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে সবথেকে বেশি লাভবান হবে। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের অধীনে সরকার প্রায় ২ থেকে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার গ্যারান্টি প্রদান করতে পারে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এই নয়া পরিষেবা চালু করা হতে পারে বলে ইটি (ET) এর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই যুদ্ধের এই অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করার কাজ শুরু করেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে একজন সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল কোম্পানিগুলিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস প্রদান করা। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি এখনও খুব একটা গুরুতর নয়, তবে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ কমাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির প্রভাব খতিয়ে দেখছেন। সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বড় কোনও সমস্যা দেখা দিলে তারা যেন অবিলম্বে সরকারকে অবহিত করে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নতুন পরিকল্পনাটি অনেকটা করোনা মহামারীর সময়কালীন ECLGS প্রকল্পের অনুরূপ হতে পারে। এই স্কিমের অধীনে MSME সহ বিভিন্ন ব্যবসা নগদ অর্থের ঘাটতি মেটাতে বিনা গ্যারান্টিতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ঋণখেলাপির হার উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও রফতানি-সম্পর্কিত শিল্পগুলি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই সঠিক সময়েই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, করোনা চলাকালীন চালু হওয়া ECLGS প্রকল্পের অধীনে সরকার মোট ৩.৬২ লক্ষ কোটি টাকার গ্যারান্টি দিয়েছিল, যার ফলে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ ব্যক্তি ও সংস্থা উপকৃত হয়। গড়ে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট প্রায় ৩ লক্ষ টাকার গ্যারান্টি কভার পেয়েছিল। সেই সময় ১৩.৫ লক্ষেরও বেশি MSME ইউনিট বন্ধ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল এবং ১.৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ এনপিএ (NPA) হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। সেই সফল মডেলকেই এবার পশ্চিম এশিয়া সংকটের প্রেক্ষাপটে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে দেশের সরকার।
