খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের একবার মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও কুসংস্কারের (Superstition) কালো ছায়া দেখল দেশ। নিজের অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার টানে ১২ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ‘বলি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) হাজারিবাগে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের (Brutal Murder) ঘটনায় অভিযুক্ত মা রেশমি দেবী (Reshmi Devi), তাঁর প্রেমিক ভীম রাম এবং শান্তি দেবী (Shanti Devi) নামে এক মহিলা তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার হাজারিবাগের পুলিশ সুপার আঞ্জানি আঞ্জন এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই রোমহর্ষক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, ৩৫ বছর বয়সী রেশমি দেবীর একমাত্র ছেলে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল। ছেলের রোগমুক্তির উপায় খুঁজতে তিনি ৫৫ বছর বয়সী তান্ত্রিক শান্তি দেবীর শরণাপন্ন হন। জানা গিয়েছে, ওই তান্ত্রিক রেশমিকে বুঝিয়েছিলেন যে তাঁর মেয়ের ওপর কোনো এক অলৌকিক শক্তির ‘ভর’ রয়েছে। ছেলেকে পুরোপুরি সুস্থ করতে হলে চৈত্র নবরাত্রির (Chaitra Navratri) অষ্টমীতে কোনো এক ‘কুমারী’ মেয়েকে বলি দিতে হবে। কুসংস্কারে অন্ধ হয়ে মা রেশমি দেবী তখন নিজের সন্তানকেই বলির জন্য বেছে নেন।
তদন্তে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ নবরাত্রির অষ্টমীর রাতে যখন দেশজুড়ে দেবী আরাধনা চলছিল, ঠিক তখনই নিজের ঘরেই বলি দেওয়া হয় নাবালিকাকে। অভিযোগ উঠেছে, রেশমি মেয়ের পা চেপে ধরেন এবং তাঁর প্রেমিক ভীম রাম নাবালিকার টুঁটি টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে। এরপর তান্ত্রিকের নির্দেশে তারা মেয়েটির ওপর নারকীয় অত্যাচার চালায়। তন্ত্রসাধনার আচার পালনের জন্য নাবালিকার মাথা থেঁতলে রক্ত সংগ্রহ করা হয় বলেও এদিন জানা গিয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দেহটি বাড়ির বাগানে পুঁতে দেয়।
পরদিন সকালে দেহ উদ্ধার হলে হাজারিবাগ পুলিশ তদন্তে নামে। অভিযুক্তরা শুরুতে ঘটনাটিকে ‘ধর্ষণ’ (Rape) বলে চালিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। কড়া জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা স্বীকার করে যে, তন্ত্রসাধনা বা নরবলির কারণেই এই খুন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রেশমি দেবীর স্বামী কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে থাকেন। সেই সুযোগে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভীম রামের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ধৃত ভীম রামের অপরাধের রেকর্ড বেশ দীর্ঘ; এর আগে নিজের ভ্রাতৃবধূ ও অন্য একজনকে খুনের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিন অভিযুক্তই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। আধুনিক যুগেও এই ধরণের ঘটনা ফের একবার সমাজের গভীরে গেঁথে থাকা অন্ধবিশ্বাসের ভয়াবহ রূপকে প্রকাশ্যে এনে দিল।
