খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
নাকাশিপাড়া: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার কলকাতার নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাকিস্তানের ডিফেন্স মিনিস্টার Khwaja Asif এর সাম্প্রতিক হুমকিতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে, পাক মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন নীরবতা পালন করছেন। সোমবার কৃষ্ণনগরের Nakashipara নির্বাচনী সভা থেকে এই প্রশ্ন তুলেই সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
জানা গিয়েছে, কাশ্মীরের Pahalgam জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভারত যদি কোনো অভিযান চালায়, তবে সেই সংঘাত কেবল বর্ডারে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা কলকাতার মতো ভারতের অভ্যন্তরীণ শহরেও আছড়ে পড়বে। পাক মন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত।
সূত্রের খবর, এদিন কৃষ্ণনগরের নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরি JCM High School এর মাঠে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে একটি জনসভা ছিল। সেই সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পাকিস্তান আমাদের প্রিয় কলকাতা উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী তা শুনেও কেন চুপ করে রয়েছেন? গতকাল অর্থাৎ রবিবারই প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন, কিন্তু পাক মন্ত্রীর এই ঔদ্ধত্য নিয়ে তিনি কোনো পালটা হুঁশিয়ারি দেননি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীরবতা অত্যন্ত রহস্যজনক। এদিন তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ভোটের আগে কি তবে আবারও পহেলগাঁওয়ের মতো কোনো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে? তাঁর মতে, পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীকে দিয়ে কে এই কথা বলিয়েছেন তার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রী মনে করিয়ে দেন, রাজনীতির লড়াই আলাদা হলেও দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে তাঁর দল সর্বদা কেন্দ্রের পাশেই থাকে। অতীতে পহেলগাঁও হামলার জবাব দিতে ইন্ডিয়ান আর্মির Operation Sindur এর সমর্থনে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শামিল ছিলেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, ভারতীয় হিসেবে দেশাত্মবোধ থাকলেও কলকাতাকে আক্রমণের হুমকি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নির্বাচনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খোদ কলকাতাকে নিয়ে পাক মন্ত্রীর হুমকি এবং মুখ্যমন্ত্রীর পালটা আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
