খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তাহার প্রকাশের ঠিক পরের দিনই প্রচারে ঝড় তুলতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Narendra Modi)। জানা গিয়েছে, শনিবার পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) পূর্বস্থলী ও কাটোয়ার জনসভা থেকে জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে।
এদিন কাটোয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কিছু শিশু হাতে আঁকা ছবি নিয়ে হাজির হয়েছিল। তাদের উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ছবিগুলো যেন নাম ও ঠিকানা সমেত জমা দেওয়া হয়, কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ধন্যবাদবার্তা পাঠাবেন বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, এদিনের জনসভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গুজরাটের প্রচণ্ড গরমেও সকাল ১১টা-১২টায় এমন জনজোয়ার তিনি কল্পনা করতে পারেন না। এই বিপুল ভিড়ই প্রমাণ করছে যে আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় পরিবর্তন নিশ্চিত।
তবে শুধু রাজ্যের ভোট নয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে এদিন নির্বাচন কমিশনকেও (Election Commission) অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, তিনটি রাজ্যে কোনো রকম হিংসা ছাড়াই সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিহার, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যেখানেই মহিলারা বেশি সংখ্যায় বুথমুখী হয়েছেন, সেখানেই বিজেপি (BJP) এবং এনডিএ (NDA) জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। মোদির কথায়, কেরালায় বাম (LDF) বা কংগ্রেস (UDF) জোটও তাদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না, আর বাংলাতেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকেই এগোচ্ছে বিজেপি।
সমর্থকদের বিপুল উদ্দীপনা দেখে তিনি জোর গলায় বলেন, “আপনাদের এই জোশই আমাদের জয় পাকা করে দিচ্ছে।” অমিত শাহের ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির রেশ ধরেই এদিন প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার (Double Engine Government) গড়তে কতটা বদ্ধপরিকর বিজেপি। ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের জয় বলেও অভিহিত করা হয়। পূর্ব বর্ধমানের এই মেগা জনসভা থেকে একদিকে যেমন তিনি উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন, তেমনই বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিজেপি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
