খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজগঞ্জ: রাজনীতির পারদ চড়ছে, প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু রাজগঞ্জের কালীনগরের খেকিভিটা (Rajganj, Kakinagar) এলাকায় একটি দরজায় কড়া নাড়তে যেন 'ভয়' পাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। কারণ সেই দরজার ওপারেই লুকিয়ে রয়েছে এক করুণ আর্তনাদ এবং একরাশ অবহেলার ইতিহাস। সামান্য চোট থেকে আজ পঙ্গুত্বের শিকার ২১ বছরের তরুণী জয়া পাল (Joya Paul)।
জানা গিয়েছে, আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে সামান্য পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন জয়া। সেই সময় সামান্য ব্যথা অনুভব করায় তিনি স্থানীয় সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান, কিন্তু সেখান থেকে কোনো সুরাহা মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, এরপর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে (NBMCH) গেলেও মেলেনি সঠিক চিকিৎসা। নিরুপায় হয়ে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ছোটেন দরিদ্র বাবা। সেখানে একাধিক রিপোর্টের পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তরুণীর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার বা শল্য চিকিৎসা করা হয়।
অভিযোগ, সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই চিরতরে হাঁটাচলার শক্তি হারিয়েছেন জয়া। বছর পাঁচ ধরে দু-পা অকেজো অবস্থায় বিছানায় দিন কাটছে তার। মলমূত্র ত্যাগ থেকে শুরু করে নিত্যদিনের কাজ— সবকিছুই এখন শয্যাশায়ী অবস্থায় করতে হয় তাকে।
জয়ার বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে তিন মেয়ের সংসার চালান। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে মেজো মেয়ের এমন অবস্থায় দিশেহারা পরিবার। জয়ার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, পাঁচ বছর ধরে চোখের সামনে মেয়েকে তিল তিল করে শেষ হতে দেখছেন, কিন্তু টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
গতকাল অর্থাৎ সোমবার, জয়া পালের বাড়িতে গিয়েছিলেন সমাজকর্মী বাপন দাস। তিনি পরিবারের সাথে কথা বলে জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে মেয়েটি ভুল চিকিৎসার (Medical Negligence) শিকার হয়েছে। তাকে সুস্থ করতে হলে কলকাতা নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তবে এতে অন্তত ১৫ লক্ষ টাকার ঝক্কি রয়েছে, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
বর্তমানে ২০২৬ সালের নির্বাচনী আবহে (Election 2026) সরগরম এলাকা। তবে জয়ার মায়ের অভিযোগ, ভোট চাইতে আসা প্রার্থীরা জয়ার করুণ অবস্থার কথা শুনে আর সাহায্য করতে চাইছেন না, এমনকি অনেকে বাড়িতে আসতেই ভয় পাচ্ছেন। সরকারি বা রাজনৈতিক কোনো স্তর থেকেই মেলেনি সহযোগিতা। এমতাবস্থায় জয়ার পরিবার সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, "এককভাবে না হলেও, সকলে যদি বিন্দু বিন্দু করে সাহায্য করেন, তবেই হয়তো জয় আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে।"
