খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজগঞ্জ: খেলার মাঠের হার্ডলস পার করা যাঁর চিরকালের অভ্যাস, রাজনীতির ময়দানে পা রাখার আগেই আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। অবশেষে সমস্ত জট কাটিয়ে স্বস্তিতে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন (Swapna Burman)। ভারতীয় রেলের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলির জটিলতা কাটিয়ে রাজগঞ্জ (Rajganj) বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁর লড়াই এখন নিশ্চিত বলে জানা গিয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার অর্থাৎ মনোনয়ন পেশের শেষ দিনে তিনি নিজের আবেদনপত্র জমা দেবেন।
সূত্রের খবর, স্বপ্নার রেলের চাকরি নিয়ে এই সমস্যার সূত্রপাত হয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (Northeast Frontier Railway) আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কর্মরত থাকাকালীনই রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি পদে থেকে সক্রিয় রাজনীতি করা নিষিদ্ধ হওয়ায় স্বপ্না ইস্তফা দিলেও তা রেলের পক্ষ থেকে শুরুতে গ্রহণ করা হয়নি। বরং পদ্ধতিগত কারণে তাঁকে ‘বরখাস্ত’ করা হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে শেষমেশ রেল তাঁকে ‘নো ডিউস সার্টিফিকেট’ দেয়। তবে জনপ্রতিনিধি আইনের (Representation of the People Act) ২-বি ফর্মের একটি নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ওই ধারায় জানতে চাওয়া হয়, সরকারি পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণ কোনো দুর্নীতি বা আনুগত্যহীনতা কি না। এই প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ছাড়পত্র বা এনওসি (NOC) প্রয়োজন ছিল।
শনিবার পর্যন্ত এই ছাড়পত্র না আসায় স্বপ্নার নির্বাচনে লড়া নিয়ে রাজ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের নাম নিয়ে পুনরায় জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। আগে প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় খগেশ্বর অনুগামীরা ক্ষুব্ধ হলেও খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল। তবে স্বপ্নার আইনি বাধা সামনে আসতেই ফের খগেশ্বর শিবির আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল। এমনকি দলগতভাবেও তাঁকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় মোড়ে নির্বাচন কমিশনের এনওসি হাতে আসতেই স্বপ্নার প্রার্থীপদ এখন নিষ্কণ্টক। আজ সোমবারই তিনি ঘাসফুল শিবিরের হয়ে রাজগঞ্জে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন বলেই খবর।
