খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: লক্ষ্য যদি স্থির থাকে এবং মনের ভেতর অদম্য ইচ্ছাশক্তি বজায় থাকে, তবে কোনো প্রতিকূলতাই যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা আবারও প্রমাণ করলেন উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা শচীন কুমার (Sachin Kumar)। সাধারণ পুলিশ কনস্টেবল থেকে সরাসরি ডেপুটি কালেক্টর (SDM) পদে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আজ সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কঠোর পরিশ্রম এবং জেদ থাকলে যে কোনো কঠিন স্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব, শচীন আজ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
দীর্ঘ লড়াই ও শিক্ষার যাত্রা
সূত্রের খবর, শচীনের এই জীবনযুদ্ধ শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশ বোর্ড থেকে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর পারিবারিক সমস্যার কারণে তাঁর পড়াশোনা টানা দুই বছর বন্ধ ছিল। তবে পড়াশোনার সঙ্গে তিনি মানসিক বিচ্ছেদ ঘটতে দেননি। ২০১৬ সালে তিনি এলাহাবাদের মতিলাল নেহেরু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MNNIT) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পান। এরপর ২০২০ সালে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে সফলভাবে বি-টেক (B.Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
কনস্টেবলের চাকরি ও স্বপ্নের শুরু
বি-টেক শেষ করেই তিনি সরকারি চাকরির (Govt Jobs) প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। সেই বছরই তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিযুক্ত হন। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও উঁচুতে। সিভিল সার্ভিসে (Civil Services) যোগ দিয়ে দেশসেবা করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। জানা গিয়েছে, পুলিশ কনস্টেবল পদের ১৩ মাসের কঠোর ট্রেনিং চলাকালীনও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।
ল্যাম্পের আলোয় প্রস্তুতি ও সাফল্য
এদিন শচীন জানান, সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি, ড্রিল এবং কড়া ডিসিপ্লিনের পর শরীরে ক্লান্তি থাকলেও তিনি পড়াশোনা থামাননি। ট্রেনিং পিরিয়ডে সিনিয়র অফিসারদের স্যালুট করার সময়ই তিনি মনে মনে স্থির করেছিলেন যে, একদিন তিনিও ওই উচ্চপদে আসীন হবেন। যখন ক্যাম্পের বাকিরা ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন, তখন শচীন টেবিল ল্যাম্পের আলোয় বই নিয়ে বসতেন। ঘুমের সময় কমিয়ে সেই অমূল্য সময়টুকু তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের পিছনে ব্যয় করতেন।
অবশেষে সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে হাতেনাতে। উত্তরপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPPSC) ২০২৪ এর পরীক্ষায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন তিনি। জানা যায়, গোটা রাজ্যে ৩১ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি বর্তমানে ডেপুটি কালেক্টর (Deputy Collector) পদে মনোনীত হয়েছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য আজ সারা দেশের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
