পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা। কারা পাবেন সুবিধা? ফর্ম ফিলাপ কবে থেকে? নবান্ন থেকে বিস্তারিত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী...

তবে এই ফর্ম পূরণের জন্য অহেতুক তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, আগামী ১লা জুন থেকে টানা ৯০ দিন অর্থাৎ তিন মাস ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে। যতদিন না অন্নপূর্ণা যোজনা পুরোদমে শুরু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান চালু থাকবে। কিন্তু নতুন প্রকল্পের অধীনে নাম উঠলেই পুরোনোটি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষত, ২ জুনের মধ্যে যাঁরা রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া শুরু করবেন বলে জানা যায়।
কারা পাবেন এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা? এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতাভুক্ত হবেন। অন্যদিকে, আয়করদাতা, সরকারি চাকুরীজীবী এবং নিয়মিত বেতন বা পেনশনভোগীরা এই তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়বেন। বাকি সকল যোগ্য মহিলাই এই সুবিধা পাবেন। প্রতি সপ্তাহে কতজন এই যোজনায় নাম নথিভুক্ত করলেন, তা নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করে জানাবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ফর্ম জমা দেওয়ার সুবিধা থাকছে। যাঁরা নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিক এবং নবনির্বাচিত বিধায়কেরা সাহায্য করবেন। আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ আয়োজিত হতে চলা জনকল্যাণ শিবিরেও এই ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনাটি রাজ্যের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের অধীনে পরিচালিত হবে। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকরা এই কাজ পরিচালনা করবেন। আধার সংক্রান্ত কাজ ও ভোটার তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। কারণ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ মিলেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ এমন উপভোক্তার হদিস মিলেছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ গেলেও তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি। মূলত তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার প্রয়োজনেই সকলকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে বলেছেন শুভেন্দু। তবে, যাঁরা সিএএ (CAA)-তে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এছাড়াও, এসআইআর (SIR) থেকে নাম বাদ গেলেও যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের আপাতত ব্যতিক্রমী তালিকায় রাখা হচ্ছে।