
আইন মোতাবেক স্ক্রুটিনি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা অনেক আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে আগামী ২১ মে ইভিএম (EVM) মেশিনে জাহাঙ্গির খানের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক যথারীতি বজায় থাকবে। তবে প্রার্থীর নিজের মুখে "আমি লড়ছি না" বলে দেওয়ার পর, ফলতার মাটিতে ঘাসফুল শিবিরের নির্বাচনী লড়াই যে শুরু হওয়ার আগেই কার্যত সমাপ্ত হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
মঙ্গলবার সকালে নিজের বাসভবনে একটি জরুরি প্রেস মিট ডাকেন সাদা শার্ট ও কালো ট্রাউজার্স পরিহিত জাহাঙ্গির—যাঁকে রাজনৈতিক বৃত্তে অনেকে ভালোবেসে 'পুষ্পা' নামেও ডেকে থাকেন। সেখানে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি জানান, "আমি এই ফলতারই ভূমিপুত্র। একটি সোনার ফলতা গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন। রাজ্যের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের (Special Package) কথা ঘোষণা করেছেন। আমি চাই ফলতা শান্ত থাকুক এবং এখানে আরও বেশি প্রগতি হোক। সেই কারণেই এই পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।" বক্তব্য পেশ করার সময় এই তৃণমূল নেতার গলা স্পষ্টতই বুজে আসতে দেখা যায়। তবে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের কোনো নির্দেশ এর পেছনে কাজ করেছে কি না, সেই জল্পনা তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে গিয়েছেন।
ঠিক যে মুহূর্তে ফলতার ঘরের ছেলে জাহাঙ্গির খান নিজের ঘরে বসে এই সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন, কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই সময়ই ফলতার রাজপথে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে এক বিশাল 'রোড শো' করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূল প্রার্থীর এই আকস্মিক 'ওয়াকওভার'-এর খবর এসে পৌঁছানো মাত্রই গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাস লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনী আবহাওয়ার মধ্যেই ফলতার রাস্তায় রাস্তায় আবির খেলায় মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মীরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল ফলতার জয়-পরাজয় নির্ধারণ করল না, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের দেওয়ালেও একটি বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, ২১ মে ব্যালট বাক্সে এই নাটকীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক কী প্রভাব পড়ে।