বাড়িতে আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাজগঞ্জের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন! তদন্তে ফরেনসিক টিম

May 16, 2026
Reading...
Swapna Barman Jalpaiguri, স্বপ্না বর্মন রাজগঞ্জ, তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন, West Bengal Assembly Election, Jalpaiguri News, খবর বঙ্গ, Swapna Barman news, জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা, মহুয়া গোপ, বাপি গোস্বামী, Forensic Team Jalpaiguri, Khabor Banga
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: স্বপ্না বর্মন, পরিচিত একটি নাম! বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এবার তাঁর পরিত্যক্ত বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল রাজগঞ্জ তথা জলপাইগুড়িতে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এদিন শনিবার থানায় অভিযোগ জানাতে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজগঞ্জের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)। থানার বাইরে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দাবি, কোনো ঘনিষ্ঠ মানুষই এই অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। একইসঙ্গে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। এদিন স্বপ্নার জ্যাঠামশাই শ্যামল বর্মন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে থানায় হাজির হন। তাঁর অভিযোগ, স্বপ্নার দাদারা নিজেরাই ওই বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে স্বপ্না বর্মনের পরিত্যক্ত বাড়িতে আচমকাই আগুন লেগে যায়। এই ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর, আজ নিজেই স্কুটি চালিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় আসেন স্বপ্না বর্মন এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানা থেকে বেরোনোর সময় তিনি বলেন, "ভোটে হার-জিত জীবনেরই একটা অংশ। আমি খেলাধূলার জগত থেকে এসেছি, তাই স্পোর্টসম্যান স্পিরিট আমার জানা আছে। কিন্তু রাজনীতি যে এতটা নির্মম হতে পারে, তা জানা ছিল না। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে পরাজিত এই তৃণমূল প্রার্থী বলেন, "নতুন সরকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই জায়গা থেকেই আবেদন জানাচ্ছি, আমাকে যেন কিছুদিন নিরাপত্তা দেওয়া হয়। আমার দল বা অন্য কে কী ভাবছেন, তা নিয়ে এখন আমি ভাবছি না।"

বাড়িতে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে স্বপ্না বর্মন জানান, "নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলা সম্ভব নয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং প্রাথমিক অনুমানে মনে হচ্ছে কোনো ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিই এই কাজ করেছে।" তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজ যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারাই ৪ তারিখের আগে তৃণমূলের পতাকা বেঁধেছিল। এমনকি ৪ তারিখ সকালেও যারা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল, তারাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ও আমার দাদাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।" ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করবেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন এই অ্যাথলিট জানান, "রাজনীতিতে থাকব কি না তা সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছি। অ্যাথলিট হিসেবে আমি লড়াই করতে জানি এবং লড়াই করেই এগিয়ে যাব। তবে রাজনীতির এই রূপ আগে জানা থাকলে হয়তো আসতাম না।" এর পাশাপাশি কোনো খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতে রাজনীতির ময়দানে না আসার পরামর্শও দেন তিনি।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বপ্না বর্মন থানা থেকে বেরোনোর পরেই এলাকার বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় আসেন। প্রতিবেশীদের দাবি, "স্বপ্নার দুই দাদা এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে শাসিয়েছেন। এখন রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করছেন।" ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীদের তরফে। স্বপ্নার জ্যাঠামশাই শ্যামল বর্মনও সুর চড়িয়ে দাবি করেন, আগুন লাগানোর বিষয়ে স্বপ্না সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ করছেন।

সমগ্র বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, স্বপ্না বর্মনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, নিয়মানুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে জলপাইগুড়ি রিজিওনাল ফরেনসিক টিম (Forensic Team)।

এই বিষয়ে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, "স্বপ্না আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছিল এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের সামনে নিয়ে আসুক।" অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী এই প্রসঙ্গে জানান, "উনি কি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নামে অভিযোগ করেছেন? প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখুক, আইন আইনের পথেই চলবে। আমরা কোনো রকম হুমকির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।" সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজগঞ্জ তথা জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক পারদ অনেকটাই চড়েছে।