উত্তরবঙ্গের ৫০০ বছরের প্রাচীন লোকসংস্কৃতির ধারক, পদ্মশ্রী ও বঙ্গরত্ন প্রাপক সারিন্দা বাদক মঙ্গলা কান্ত রায় ১০৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন।

উত্তরবঙ্গের ৫০০ বছরের পুরোনো লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান কারিগর, সারিন্দা বাদনের প্রখ্যাত শিল্পী মঙ্গলা কান্ত রায় আর ইহলোকে নেই। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধওলাগুড়ির নিজ বাসভবনে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে এই প্রবীণ গুণী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ১০৪ বছর। বেশ কিছু দিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা এবং গলার সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন।
লুপ্তপ্রায় লোকশিল্প সারিন্দা বাদনকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন মঙ্গলা কান্ত রায়। এই প্রাচীন শিল্পকলার প্রতি তাঁর এই অনন্য ও অসামান্য নিষ্ঠার সম্মানার্থে ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পদক প্রদান করে। তাঁর এই চলে যাওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির আঙিনায় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুমানিক এক মাস পূর্বে শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়ে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করায় পরিজনেরা তাঁকে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে শুরু করে। শুক্রবার সকাল হতেই তাঁর চিরবিদায়ের বার্তা চারিদিকে পৌঁছাতেই ধওলাগুড়ি এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রয়াত শিল্পীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে তাঁর বাসভবনে বহু মানুষের সমাগম ঘটে। জানা গিয়েছে, শিল্পীর অন্তিম ইচ্ছা অনুসারে তাঁর বাড়ির সংলগ্ন নিজস্ব জমিতেই শেষকৃত্যের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
Advertisement