পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপক সারিন্দা শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়ের প্রয়াণের পর ময়নাগুড়ির বাড়িতে চরম আর্থিক সংকট। অভাবের সংসারেও বাবার ব্যবহৃত সারিন্দা...

শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়ের এই দুটি বাদ্যযন্ত্রের পিছনের ইতিহাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কৈশোরে বাড়ির নিকটবর্তী শ্মশান থেকে এক খণ্ড পোড়া কাঠ সংগ্রহ করে নিজের যত্নে তিনি প্রথম সারিন্দাটি তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের এক শিক্ষকের কাছ থেকে পাঁচ টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় সারিন্দাটি ক্রয় করেন তিনি। এই বাদ্যযন্ত্রের সুরের জেরেই উত্তরবঙ্গের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা হয়েও তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ লাভ করেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাদ্যযন্ত্র দুটিকে নিজের কাছেই রেখেছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী।
পদ্মশ্রী সম্মান পেলেও মঙ্গলাকান্ত রায়ের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। একটি ভাঙা একচালার ঘরে অত্যন্ত সংকটের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। পরিবারের পক্ষ থেকে অতীতে একাধিকবার প্রশাসনিক স্তরে পাকা বাড়ির জন্য আবেদন জানানো হলেও তা পূরণ হয়নি।
শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর ব্যবহৃত সারিন্দা দুটি সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সংরক্ষণ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, মঙ্গলাকান্ত রায়ের ছেলেরা তা বিনম্রতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও তাঁরা পিতার এই স্মৃতিচিহ্ন নিজেদের কাছেই রেখে দিতে চান। এই বিষয়ে শিল্পীর ছোট ছেলে দিলীপ রায় জানান, তাঁদের থাকার ঘরগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে জল পড়ে। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সারিন্দা দুটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো বা ব্যবস্থা তাঁদের ঘরে নেই, তবুও বাদ্যযন্ত্র দুটি তাঁরা নিজেদের কাছেই রাখতে চান।
মেজো ছেলে নিমাই রায় জানান, বাবার স্মৃতি হিসেবে সারিন্দা দুটিকে বাড়িতে আজীবন সযত্নে রেখে দেওয়ার জন্য ঘরে কিছু সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন। তার জন্য ধারদেনা করে টাকার ব্যবস্থা করতে হলেও তাঁরা পিছুপা হবেন না।
শনিবার বেলার দিকে প্রয়াত শিল্পীর বাড়ির এক কোণে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে দেখা যায় তাঁর স্ত্রী চম্পা রায়কে। অন্যদিকে, ঘরের স্যাঁতসেঁতে মাটির মেঝেতে সামান্য কাপড় বিছিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁর ছেলেরা। আগামী ১৩ দিন পর বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার খরচ নিয়েও চিন্তিত পরিবার। শুক্রবারের পর শনিবার আর কোনো জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ মানুষ তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি।
এই পরিস্থিতিতে শিল্পীর বড় ছেলে উমাকান্ত রায় আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এযাবৎকাল পর্যন্ত কেবল আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছু হয়নি। তিনি দাবি জানান, প্রশাসন যেন অন্ততপক্ষে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের জন্য বার্ধক্য ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার দ্রুত ব্যবস্থাটুকু করে দেয়।
Advertisement