নাটকীয়ভাবে নিউটাউনে ধরা পড়লেন খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন

May 26, 2026
Reading...
কলকাতার নিউটাউন সংলগ্ন এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন (Prashanta Barman)। জানা গিয়েছে, মত্ত অবস্থায় গাড়ি নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেওয়ার পর এক পথচারী তাকে আটকে সোজা পুলিশে খবর দেন। এদিন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে প্রশান্তকে একটি গাড়ির ভেতরে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত তার সরকারিভাবে গ্রেপ্তারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকার সোনার ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ এবং হত্যা কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিলেন এই প্রশান্ত বর্মন। এর আগে ওই মামলায় তার সঙ্গীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, রহস্যজনক কারণে প্রাক্তন এই বিডিও অধরাই থেকে গিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের তরফে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। শিলিগুড়ির শিবমন্দির এলাকায় নিজের বাড়িতে একাধিকবার তাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলেও, পুলিশের তরফে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর তার গ্রেপ্তারির একটি জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে নাটকীয় কায়দায় তার এই ধরা পড়ার ঘটনা ঘিরে নেটমাধ্যমে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার রাতে অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ধরা পড়ার ঘটনার পর পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এতদিন ধরে অভিযুক্তের পলাতক থাকার পিছনে পুলিশেরই গাফিলতি রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এদিন মন্ত্রী জানান, মেদিনীপুর হোক বা অন্য কোথাও, পুলিশ কাউকেই খুঁজে পায় না। অথচ সেই অভিযুক্তদের সাথেই তারা সন্ধ্যেবেলা বসে খাওয়া দাওয়া করে। তার কড়া হুঁশিয়ারি, পুলিশকে অবিলম্বে নিজেদের অভ্যাস বদলাতে হবে, অন্যথায় পাবলিক সেই অভ্যাস বদলে দেবে। মানুষ যেভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, তাতে পুলিশের এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশের এতদিনকার আচরণ আমজনতাকে এমনিতেই ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তাই পুলিশকে সঠিক দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তিনি, নইলে জনরোষের হাত থেকে কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। বিডিও থেকে শুরু করে এসডিও, ওসি বা আইসি স্তরের আধিকারিকদের বিপথগামী হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বেআইনি কাজকে আইনি বলে মনে করা এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সব হাতিয়ে নেওয়াটাই ধীরে ধীরে তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই এখন অন্তত নিজেদের শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে। তা না হলে এই ধরনের আধিকারিকদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার বা 'গ্যারেজ' করার কথাও উল্লেখ করেন রাজ্যের এই মন্ত্রী।