সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও অধরা! সমন্বয়ের অভাবে বারাসত আদালত থেকে বাড়ি ফিরলেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও

May 26, 2026
Reading...
রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ ইকো পার্কে দুর্ঘটনার পর গ্রেফতার হলেও নথির অভাবে ১০০০ টাকার বন্ডে বারাসত আদালত থেকে জামিন পেলেন।
বারাসত আদালতে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের জামিন ও সল্টলেক স্বর্ণব্যবসায়ী খুন সংক্রান্ত খবরের প্রতীকি চিত্র।সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার (Salt Lake gold merchant Swapan Kamilya) অপহরণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়েও সহজেই রেহাই পেয়ে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। এদিন বারাসত আদালতে তদন্তকারী আধিকারিক (আইও) বা মূল মামলার কোনও নথি উপস্থিত না থাকায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাত্র ১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে তিনি জামিন পেয়ে বাড়ি চলে যান।

সূত্রের খবর, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা (Eco Park Police Station) সংলগ্ন এলাকায় প্রশান্ত বর্মণের গাড়ি বেপরোয়াভাবে এসে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ওই পথচারী ছিটকে গিয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্কুটার আরোহীর গায়ে পড়েন এবং তাঁর পায়ে আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে। এরপর ওই স্কুটার আরোহী গাড়িটিকে আটকে দেন এবং পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছায়। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অপরাধে প্রশান্তের বিরুদ্ধে মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪ এবং ১৮৫ ধারা, এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস (BNS)-এর ২৮১ ও ১২৫বি ধারায় এফআইআর রুজু হয়।

মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসত আদালতে (Barasat Court) পেশ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট এদিন দীর্ঘক্ষণ নথির জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও, তা পৌঁছায়নি। এই প্রসঙ্গে সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি। তবে প্রশান্তের আইনজীবী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁর মক্কেলকে একটি জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে আনা হয়েছিল। বিধাননগর কোর্ট বা অন্য কোনও স্থান থেকে মূল মামলার কোনও নথি বা পুলিশি হেফাজতের আবেদন জমা পড়েনি। সরকারি পক্ষ অন্য মামলার কথা উল্লেখ করলেও, দীর্ঘক্ষণ অর্ডার রিজার্ভ রাখার পর এসিজেএম তাঁকে জামিন দিয়ে দেন।

আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতার মতে, পুলিশের এই সমন্বয়ের অভাব অত্যন্ত অদ্ভুত। নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোথাও অপরাধী গ্রেফতার হলে মূল তদন্তকারী আধিকারিকরা 'শোন অ্যারেস্ট' (Shown Arrest) বা হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন। খুনের অভিযোগ এবং দুর্ঘটনা—দুটি ঘটনাই যখন বিধাননগরের আওতায় ঘটেছে, তখন এই ধরনের গাফিলতি অবাক করার মতো।

জানা গিয়েছে, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার অন্তর্গত যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণের পর খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যেখানে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এই প্রশান্ত বর্মণ (Prashanta Barman)। প্রথমদিকে বারাসত এবং বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে তিনি আগাম জামিন পেয়েছিলেন। তবে বিধাননগর পুলিশ এর বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়। হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও (Supreme Court) তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এত কিছুর পরেও পুলিশের নাগালের বাইরেই ছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। শেষমেশ গ্রেফতার হলেও, নথির অভাবে পুনরায় জামিন পেয়ে গেলেন তিনি।