কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা তৃণমূলের পরিষদীয় বৈঠক কোরামের অভাবে বাতিল। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২০ জন।

তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, দলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জনসংযোগ ও বোঝাপড়া আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সভার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই সভার গুরুত্ব ও গাম্ভীর্যের কথা বিবেচনা করে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানান এবং নেত্রীও তাতে সম্মতি প্রদান করেছিলেন।
তবে রবিবার নির্ধারিত সময়ে বৈঠক শুরু হওয়ার মুখে এক অপ্রত্যাশিত ছবি সামনে আসে। দেখা যায়, শাসকদলের পরিষদীয় শক্তির এক বিশাল অংশই সভাস্থলে পৌঁছাননি। তৃণমূলের পরিষদীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভায় দলের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা যেখানে ৮০, সেখানে এ দিন দলনেত্রীর বাসভবনে হাজির হয়েছিলেন মাত্র ২০ জন। অর্থাৎ, হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৭৫ শতাংশ বিধায়কই রবিবারের এই মেগা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
যেকোনো সংসদীয় বা পরিষদীয় নিয়ম অনুসারে, কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বৈধভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম উপস্থিতির হার বাধ্যতামূলক, যাকে আইনি পরিভাষায় ‘কোরাম’ বলা হয়ে থাকে। এ দিন কালীঘাটের বৈঠকে হাজির থাকা বিধায়কদের সংখ্যা এতটাই নগণ্য ছিল যে সেই ন্যূনতম কোরামের শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এর জেরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই বৈঠকটি শুরু না করে তা পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
খোদ দলনেত্রীর বাড়িতে ডাকা কর্মসূচিতে বিধায়কদের এই বিপুল পরিমাণ গরহাজিরা নিয়ে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ও চর্চা শুরু হয়েছে। এটি কি শুধুমাত্র রবিবাসরীয় ছুটির আমেজ, নাকি এর নেপথ্যে সমন্বয়ের বড়সড় ঘাটতি অথবা অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবিরও।
যদিও উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিতর্ক প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বিধায়করা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিধানসভা এলাকায় অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। বিধায়কদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি দলকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং তাঁরা পরবর্তী কোনো সুবিধাজনক তারিখে এই বৈঠকটি করার জন্য আবেদন জানান। দলনেতৃত্ব সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে অন্য কোনো তারিখে এই বৈঠকটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। পাশাপাশি, আগামীকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও কুণাল ঘোষ তথ্য দিয়েছেন।
Advertisement