State
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ‘যোগী মডেলে’ অ্যাকশন শুরু শুভেন্দু অধিকারীর, ধর্মীয় স্থানে মাইক ও রাস্তা আটকে প্রার্থনা নিয়ে বড় নির্দেশ
May 12, 2026
Reading...
কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এবার কাজ শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই তিনি বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আইন সবার জন্যই সমানভাবে কার্যকর হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানে মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ এবং রাস্তা আটকে প্রার্থনা বা সভা করার বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ কর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনও ধর্মীয় স্থানের মাইকের আওয়াজ যেন সেই চত্বরের বাইরে না ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির, মসজিদ কিংবা গির্জা— সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বিশেষ বড় উৎসব ছাড়া রাস্তা আটকে কোনও ধর্মীয় জমায়েত বা প্রার্থনা করা যাবে না বলে এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জনস্বার্থ রক্ষায় পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance Policy) নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসির ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং রাস্তা আটকে কর্মসূচি না করার বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করবেন। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল একাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী জানান, প্রার্থনা একটি ব্যক্তিগত বিষয়। কোনও ধর্মগ্রন্থে মাইক বাজিয়ে ধর্ম পালনের কথা নেই। সুস্থ সমাজ গঠনে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে যে:
১. রাজ্যে 'প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত যোজনা' (Ayushman Bharat Yojana) চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২. সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে (BSF) কাঁটাতার দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে।
৪. গণতন্ত্রের লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ৩২১টি বিজেপি পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার।
৫. পিএম বিশ্বকর্মা, পিএম উজ্জ্বলা এবং ফসল বীমা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত খবর
