সরকারি পাম্পে জ্বালানি বিক্রির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি! পেট্রোল-ডিজেলের কালোবাজারি রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ

May 30, 2026
Reading...
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের (West Asia Conflict) জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। পরিস্থিতি সামাল দিতে IOC, BPCL, HPCL-কে ৩০ দিনের এলপিজি মজুত...
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝে ভারতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩০ দিনের এলপিজি মজুতের নির্দেশ কেন্দ্রের
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত (West Asia Conflict)। এই আশঙ্কার মাঝেই বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, আইওসি (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে কমপক্ষে ৩০ দিনের এলপিজি মজুত (LPG reserve guidelines) রাখার নির্দেশিকা পাঠিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

শুক্রবার এই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির জোগান সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই সরকারের এই কৌশলগত পদক্ষেপ। এই সংস্থাগুলিকে ন্যূনতম এক মাসের এলপিজি ভাণ্ডার গড়ে তোলার রূপরেখা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ব্যবহৃত এলপিজি-র প্রায় ৯০ ভাগই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলি থেকে আসে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ এবং খনিজ তেলের ৪০ শতাংশ আমদানিও ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জোগান ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায়, সরকার কোনোভাবেই ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে নয়।

এদিন সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, ডিজেল ও পেট্রোলের যথেষ্ট জোগান রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শোধনাগারগুলি তাদের পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এলপিজি উৎপাদনের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার টনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ঘাটতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে পেট্রোল পাম্পগুলিতে আচমকা জ্বালানির ‘অস্বাভাবিক বিক্রি’ নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রকের তথ্য বলছে, কৃষি মরশুমের কারণে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দামের ফারাক। বেসরকারি পাম্পগুলির তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত কেন্দ্রগুলিতে জ্বালানি সস্তা হওয়ায় সেখানে উপচে পড়ছে ভিড়। ভারতের ১৫০টিরও বেশি জেলায় পেট্রোলের বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ১৪টি জেলায় সেই বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। বিপরীতে, বেসরকারি পাম্পগুলিতে ডিজেল বিক্রি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। আর এই কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির পাম্পে অতিরিক্ত চাপ এসে পড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে থেকে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। কিন্তু বেসরকারি কেন্দ্রগুলি দাম বাড়িয়েছে আরও বেশি হারে। আর এই মূল্যবৃদ্ধির তারতম্যের জেরেই আমজনতা সরকারি পাম্পগুলির দিকে ঝুঁকছেন। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ও বেআইনি মজুত রুখতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ নজরদারি দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বা 'প্যানিক বাইং' থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থির পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা বেশ কঠিন। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার আগাম সতর্কতামূলক যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে ঠিক কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।
Advertisement