পরিবর্তনের পক্ষে রায় বাংলার! ৮০ আসনেই থমকাল তৃণমূল, নবান্ন দখলের পথে পদ্ম শিবির।

May 05, 2026
Reading...
West Bengal Election Result 2026, West Bengal Assembly Election, BJP West Bengal seats, TMC loss, Suvendu Adhikari win, West Bengal Vote Percentage.
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) চূড়ান্ত ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। সোমবার, ৪ঠা মে ছিল বহু প্রতীক্ষিত ফলপ্রকাশের দিন। সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রগুলিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে গেরুয়া ঝড়। গণনা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে বঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত কতগুলি আসনে জয়ী হলো বিজেপি (BJP West Bengal)? আর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ঝুলিতেই বা কতগুলি আসন গেল? একনজরে দেখে নিন বিস্তারিত।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছিল। সেই মোতাবেক ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সাধারণ মানুষ। গতকাল অর্থাৎ সোমবার ছিল সেই ভাগ্য নির্ধারণের দিন।

এবারের নির্বাচনে প্রত্যাবর্তনের আশা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পথেই হেঁটেছে বলে জানা গিয়েছে। ২০১১ সালের পর ২০২৬—দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফের বাংলায় পালাবদল ঘটল। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, উভয় আসনেই জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্যদিকে, পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রীকে।

সূত্রের খবর, তৃণমূলের ভোট ব্যাংক গত নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে তৃণমূল যেখানে ৪৭.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০.৮০ শতাংশে। অন্যদিকে, বিজেপির ভোট শতাংশ ৩৮.১৩ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশে। অর্থাৎ, তৃণমূলের হারানো ভোটের একটি বড় অংশই বিজেপির দিকে গিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। তবে রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি। সেখানে তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপির পীযূষ কানোরিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে আইএসএফ (ISF) প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি, কংগ্রেসের মোতাব শেখ ও জুলফিকর আলি এবং সিপিআইএম-এর মোস্তাফিজুর রহমান জয়ী হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।