সিআইডি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস, অভিষেককে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

June 11, 2026
Reading...
বিধানসভা সই জাল-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেল ৬টায় সিআইডি দপ্তরে হাজিরা।
বিধানসভা সচিবালয়ের এফআইআর-এর ভিত্তিতে শুরু হওয়া সই জাল-কাণ্ডের মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) থেকে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বা তাঁকে গ্রেপ্তার (Arrest) করা যাবে না। অবশ্য, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআইডির সঙ্গে অভিষেককে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

এদিন শুনানির প্রারম্ভেই বিচারপতি কৌশিক চন্দের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। বিচারপতি জানতে চান, অভিষেক কেন হাজিরা এড়াচ্ছেন এবং তিনি ঠিক কবে সিআইডির সামনে উপস্থিত হবেন। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আদালত ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়। এরপর অভিষেকের আইনজীবী আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, আজ, বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন। এর পাশাপাশি, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সিআইডি যখনই তলব করবে, তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক হাজিরা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, তদন্তকারী অফিসাররা এই মামলার জরুরি নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও চালাতে পারবেন। তবে আদালতের আগামী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চরম পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন দু’সপ্তাহ পর ধার্য করা হয়েছে এবং তার মধ্যে তদন্তের যাবতীয় রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভা সচিবালয় এফআইআর দায়ের করার পরেই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। এতদিন আইনি রক্ষাকবচ না থাকায় অভিষেকের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী নির্দেশ আপাতত তাঁকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করল। তৃণমূল শিবিরের দাবি, অভিষেক প্রথম থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ছিলেন, কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। এখন সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর এই মামলা কোন অভিমুখে এগোয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
Advertisement