ভারতে বিশ্বমানের এআই হার্ডওয়্যার এবং গিগাস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি করতে জাবিল ইনকরপোরেটেডের সঙ্গে মেগা চুক্তি করল আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

আদানি এন্টারপ্রাইজের তরফে জানানো হয়েছে, এই 'ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড' এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য। ডেটা ম্যানেজমেন্টকে আরও উন্নত করতে লিকুইড-কুলড এআই র্যাক, এআই সার্ভার এবং হাই-টেক নেটওয়ার্কিং গিয়ার উৎপাদন করা হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে হাইপারস্কেলার ও এন্টারপ্রাইজ ডেটা সেন্টারগুলির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি, পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিট (PDU), কুল্যান্ট ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিট (CDU), সুইচগিয়ার্স, ট্রান্সফরমার ও বাসবার্সের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলিও তৈরি হবে এখানেই। ফলে বাইরের কোনো সাহায্য ছাড়াই একটি বৃহৎ ডেটা সেন্টার চালানোর ১০০ শতাংশ এন্ড-টু-এন্ড হার্ডওয়্যার সমাধান (End-to-End Hardware Solution) এখন ভারতের মাটিতেই মিলবে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগামী সাত বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এআই পরিকাঠামোর বাজার প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে। এই বিশাল বাজারকেই পাখির চোখ করেছে আদানি ও জাবিল। এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে জাবিল-এর ৬০ বছরের কারিগরি দক্ষতা। ২০২৫ আর্থিক বছরে জাবিল ইনক-এর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ২৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডেটাসেন্টারের উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্টে জাবিলের এই বিপুল অভিজ্ঞতা এই মেগা প্রজেক্টকে নতুন দিশা দেখাবে।
তবে এই পদক্ষেপ আদানির বৃহত্তর লক্ষ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ মাত্র। উল্লেখ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতে ৫ গিগাওয়াট (5 GW) ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ১০০ শতাংশ সবুজ শক্তি চালিত এআই হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে আদানি গ্রুপ। এই কাজের জন্য তারা ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, জাবিলের সঙ্গে চুক্তিটি তাকেই সরাসরি তরান্বিত করবে। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানান, বিশ্ব এখন 'ইন্টেলিজেন্স রেভোলিউশন'-এর যুগে পা রাখছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক কম্পিউটিং পরিকাঠামোর সঙ্গে জ্বালানি শক্তির যুগলবন্দি ঘটিয়ে ভারত আগামীর পথপ্রদর্শক হতে পারে। এই পদক্ষেপ ভারতকে কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, বরং উন্নত এআই পরিকাঠামো নির্মাণকারী এবং প্রথম সারির রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করবে বলে জানা যায়।
জাবিলের সিইও মাইক দস্তুরও এই চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানান, ভারতের দক্ষ যুবশক্তি এই প্রযুক্তির বিকাশের জন্য উপযুক্ত। জাবিলের ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে আদানির ডেটা সেন্টার বেস যুক্ত হলে তা বিশ্বে এক অভাবনীয় সমাধান প্রদান করবে। এই পদক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'মেক ইন ইন্ডিয়া' (Make in India) স্বপ্নের সফল রূপায়ণ। এর ফলে দেশে প্রযুক্তি আমদানির খরচ ব্যাপক হারে কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশীয় ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিং-এর রমরমার কারণে ডেটা স্থানীয়করণের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় ডেটা সেন্টার বাজারের ক্ষমতা ৫ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৮ গিগাওয়াট (8 GW) হতে পারে। গ্লোবাল সাপ্লাই চেনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভারতের এই উত্থানকে কাজে লাগিয়েই ডেটা স্টোরেজের দুনিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে আদানি ও জাবিল। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।
Advertisement