রাজ্যে শুরু 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৩০০০ টাকা।

বুধবার ফলতা বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত একটি সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই যোজনার অগ্রগতি তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩ জুন প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক খাতায় সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন করে আরও ১ লক্ষ ৫ হাজার মহিলা এই প্রকল্পে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। ভেরিফিকেশন পর্ব মিটলে আগামী ১ জুলাই তাঁরা একসঙ্গে জুন মাসের বকেয়া টাকাও পেয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে ফর্ম তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছেও সহায়তা করবেন বলে এদিন আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেবল মহিলাদের স্বনির্ভর করাই নয়, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাও মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ধরা পড়েছে। আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন বাজেট (Bengal government budget) পেশ হতে চলেছে। সেখানে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচির ঘোষণা থাকতে পারে। পাশাপাশি নবান্ন কৃষকদের সুরক্ষার্থে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিপুল জনসমর্থনের প্রতি সরকার যে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ, শুভেন্দু তা এদিন স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, বিগত সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ ও সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা যথাক্রমে ১,৫০০ এবং ১,৭০০ টাকা পেতেন। রাজনৈতিক পালাবদলে বিজেপির দেওয়া ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র প্রতিশ্রুতি বড় প্রভাব ফেলেছিল। তবে, বর্তমানে এই প্রকল্পের ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুললেও, বিরোধীদের এই দাবি মানতে নারাজ শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, অযথা বিতর্কে কান না দিয়ে দ্রুত যোগ্য মহিলাদের হাতে আর্থিক সুবিধা তুলে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আসন্ন রাজ্য বাজেটের হাত ধরে বাংলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে ঠিক কী বদল আসে।
Advertisement