ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদে উত্তাল যন্তরমন্তর, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব অভিজিৎ দীপকে

June 06, 2026
Reading...
NEET, CBSE ও CUET ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) তীব্র প্রতিবাদ।
নয়াদিল্লি: "দেশের যুবসমাজ আর কোনো ভীতি প্রদর্শন বরদাস্ত করবে না, তারা এবার পাল্টা লড়াইয়ের ময়দানে। আরশোলা কখনো ভয় পায় না এবং তাদের বিনাশও নেই।" ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই তীব্র আক্রমণ শানালেন ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) মূল প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke)। এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) থেকে ভারতে এসে পৌঁছান তিনি। দিল্লির বিমানবন্দরে যখন তিনি অবতরণ করেন, তখন তাঁর হাতে ভারতের সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের একটি আত্মজীবনীর কপি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা একবারে নিশ্ছিদ্র করা হয়। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IGI Airport), দিল্লির বিভিন্ন সীমান্তবর্তী প্রবেশদ্বার সহ একাধিক স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এই কড়া নজরদারির আবহেই সকাল ঠিক সাড়ে ৭টা নাগাদ দেশের রাজধানীতে এসে উপস্থিত হন অভিজিৎ। নিজের সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে দিল্লি পৌঁছানোর খবরটি তিনি নিজেই সর্বসমক্ষে আনেন। সেখানে অভিজিৎ লেখেন, "আমি এসে গেছি। যন্তরমন্তরে আপনাদের সকলের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রতীক্ষা করছি। আসার সময় একটি বই এবং আমাদের জাতীয় পতাকা তেরঙ্গা সাথে আনতে কেউ ভুলবেন না। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁদের হাতে ফুল তুলে দিন। আমাদের এই সম্পূর্ণ আন্দোলনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ভালোবাসার পথে পরিচালনা করতে হবে।"

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, যন্তরমন্তরের বুকে এই প্রতিবাদ সভা আয়োজন করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতিপত্র দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে প্রদান করা হয়েছে। এই সাফল্যের কথা 'Cockroach is Back' নামক এক্স হ্যান্ডেল থেকে নিশ্চিত করে জানানো হয়, "যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি মঞ্জুর করেছে দিল্লি পুলিশ। এবার আমরা সরাসরি যন্তরমন্তরের মাটিতেই জমায়েত করতে পারছি, ফলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আরশোলা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন।"
এখানেই শেষ নয়, নিজেদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে আরও লেখা হয়, "ধর্মেন্দ্র প্রধান, আপনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। আমরা সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্বাচিত করে ওই আসনে বসিয়েছি। আমাদের দেওয়া করের টাকা থেকেই উনি নিজের বেতন পান। অথচ তাঁর কার্যকালে আজ দেশের লক্ষ লক্ষ যুবকের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকারের গ্রাসে চলে গেছে। আরশোলা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন।"

নির্ধারিত সূচি ও সিদ্ধান্ত অনুসারেই যন্তরমন্তরের সভাস্থলে এসে ভিড় জমান ককরোচ জনতা পার্টির অসংখ্য কর্মী ও সমর্থকরা। সেখানে এসে উপস্থিত হন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ নিজেও। প্রতিবাদী সমাবেশে যোগদানকারী আন্দোলনকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখান থেকে সমস্বরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার স্লোগান তোলা হতে থাকে।
প্রসঙ্গত, NEET, CBSE এবং CUET পরীক্ষা মিলিয়ে দেশের প্রায় ১ কোটি পড়ুয়া চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে আগেই দাবি তুলেছিলেন অভিজিৎ। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, "শিক্ষাক্ষেত্রে এত বড় মাপের বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পরেও যদি দেশের শিক্ষামন্ত্রী নিজের পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে ধরে নিতে হবে এই দেশে দায়বদ্ধতা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।"

এদিকে যন্তরমন্তরের এই প্রতিবাদী জমায়েত চলাকালীনই হঠাৎ এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ককরোচ জনতা পার্টির বিরোধী দিল্লির এক স্থানীয় বাসিন্দা আচমকাই ‘হিট স্প্রে’ (Hit Spray) হাতে নিয়ে সেই ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েন। সেখানে উপস্থিত CJP সমর্থকদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির একটি ছোটখাট ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি সেখান থেকে ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
Advertisement