ফলতা থানায় হামলার মূল চক্রী হিসেবে শনিবার সকালে গ্রেপ্তার 'পুষ্পা' খ্যাত জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি।
.jpg)
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করে চর্চায় উঠে এসেছিলেন তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তবে সেই নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে শেষ করে শোচনীয় পরাজয়ের পর তিনি নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরই একাধিক মামলায় তাঁর নাম জড়ায় এবং নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই নেতাকে কোমরে দড়ি পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানো হয়, যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ফলতা এলাকা।
পুলিশি তদন্তে এই ঘটনা প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, ধৃত জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে আনার লক্ষ্যে খোদ তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবির নেতৃত্বে একটি গোপন বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, থানার কাছাকাছি অনুগামীদের জমায়েত করে সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ শানানো হবে। সেই ছক মেনেই থানা ঘেরাও করে হামলার চেষ্টা হয়। পুলিশের ওপর হামলার অপরাধে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার ফলতার জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে এই ধরনের অরাজকতার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনওরকম জঙ্গিপনা বা গুন্ডামি সহ্য করা হবে না। থানায় আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে পুলিশ সুপারকে কড়া নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তার পরেই রেজিনার গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দোষী যেই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে গোটা পরিস্থিতি।
Advertisement