নেপাল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার মুখে গ্রেফতার ফলতার 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান!

June 08, 2026
Reading...
নেপাল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার সময় STF-এর হাতে গ্রেফতার ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। তোলাবাজি ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে...
ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) অভিযানে ধরা পড়লেন 'পুষ্পা' তথা ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে ভারতের বাইরে চম্পট দেওয়ার চেষ্টাকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে এই রাজনৈতিক নেতাকে আটক করে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ বাহিনী। বর্তমানে ধৃতকে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে জাহাঙ্গিরের সন্ধান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল নেপাল সীমান্তে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে জালে তোলে।

পুলিশ সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল জাহাঙ্গিরের। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাছে তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধির আগাম খবর থাকায় সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। জানা গিয়েছে, নেপালে গিয়ে নিজের সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করার একটি পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন তিনি। এই গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কোন মামলার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ, তা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিশদভাবে জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও খুনের চেষ্টার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় নিয়ে আসার পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। তাঁর পালানোর রুট, সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছনোর মাধ্যম এবং এই প্রক্রিয়ায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের হদিস পেতে তৎপর হয়েছেন গোয়েন্দারা।

নির্বাচনের পূর্বে নিজেকে 'পুষ্পা' বলে দাবি করা এই তৃণমূল নেতা ফলতা পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু'দিন আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় জাহাঙ্গির দাবি করেন, ফলতা এলাকার প্রগতি ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ করছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলতা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে বড়সড় বেনিয়মের অভিযোগ তোলার পর থেকেই জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বাঁধে। ইভিএম কারচুপি, বুথ দখল এবং ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে ওই এলাকায়, যার জেরে সম্পূর্ণ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় শর্মা পালের নেতৃত্বে জাহাঙ্গির খানের তল্লাশি পর্ব শুরু হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলে। অভিযোগ উঠেছিল, তিনি অঞ্চলেই অবস্থান করলেও প্রশাসনের সামনে আসছিলেন না। এরপর তাঁর বাসস্থান ও যাতায়াতের গাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক তাঁর পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গির দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে ভয় পান না এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।
Advertisement