লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষের নাম! নদিয়ায় ১৭৩ জন পুরুষ উপভোক্তার হদিশ, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

June 02, 2026
Reading...
কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষের অ্যাকাউন্টে গেল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। বিডিও অফিসের কর্মীকে শোকজ।
নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lokhkhir Bhandar) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি নিয়ম মোতাবেক কেবল মহিলারাই এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। অথচ, বর্তমান উপভোক্তা তালিকায় ১৭৩ জন পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে আসতেই তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

রাজ্যে সরকার বদলের (TMC News) পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপভোক্তাদের সমস্ত তথ্য যাচাই করার কাজ শুরু হয়, যার জেরে এই অনিয়মটি ধরা পড়ে। তদন্তের মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে, কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের ওই ১৭৩ জন পুরুষের নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল এবং তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকাও পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই নামগুলি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও তৎপরতা দেখিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এই গোটা অনিয়মের ঘটনায় বিডিও অফিসেরই এক কর্মীর ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তির তাঁর দিকেই, কারণ তাঁর মাধ্যমেই এই নামগুলি উপভোক্তা তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ওই কর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে গোটা বিষয়ের লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

তবে ঠিক কী উপায়ে এই গরমিল ঘটানো হল কিংবা এর নেপথ্যে অন্য কোনও চক্র বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে দুর্নীতির এক বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সরব হয়েছে। রাজ্যের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে পুরুষদের নাম নথিভুক্ত হওয়ার এই ঘটনাটি গোটা প্রশাসনিক নজরদারি এবং ডেটা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন প্রশাসনের এই তদন্তে পরবর্তী কী তথ্য উঠে আসে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Advertisement