উত্তরবঙ্গের ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরিতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা। NBSTC বাসের ধাক্কায় মৃত অন্তত ৬ জন, আহত ৫৭।

এই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার (North Bengal Bus Accident) প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য আহত যাত্রীদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানা যায়। আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনওরকম ত্রুটি না হয় এবং জখমদের পরিবারের সুবিধার্থে একটি হেল্পলাইন নম্বর (8597965016) চালু করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পরিবহণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে আসা কোচবিহারগামী ওই বাসটি তিস্তা সেতু পার হয়ে উল্লাডাবরিতে আসতেই এই ভয়ানক বিপত্তি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের ধারে একটি ট্রেলার পার্ক করা ছিল। দ্রুতগতিতে ছুটে আসা বাসটি সোজা সেই ট্রেলারের পিছনে আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বাসের সামনের অংশ ট্রেলারের পিছন দিক ভেদ করে একেবারে ভিতরে ঢুকে যায়।
ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের আর্তনাদ শুরু হয়। সামনের দিকের বেশ কয়েকজন যাত্রী দুমড়ে যাওয়া বাসের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাই সর্বপ্রথম ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়।
দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে বাসের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে বের করে আনা হয়। জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৭ জনকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এবং ২০ জনকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহত কয়েকজনের মাথা, বুক সহ শরীরের নানা অংশে গুরুতর চোট রয়েছে।
ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল চন্দ্র ঘোষ জানান, উল্লাডাবরিতে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত সেখানে গিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর কথায়, দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেলারের পিছনে বাসটির ধাক্কা মারার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ির টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা পম্পা সাহা ও বিবেক সাহা, ময়নাগুড়ির যমুনা রায় এবং সজল সরকার এবং পুন্ডিবাড়ির শুভঙ্কর শীল। তবে ষষ্ঠ মৃত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার জেরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে কিছুক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের ক্রেন এনে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলোকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বাস চালকের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই সড়কে ফের এমন বড়সড় দুর্ঘটনা (Mainaguri Road Accident) সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
Advertisement
