২৮ বছর পর ফের কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? সোনিয়া-রাহুলের মেগা প্রস্তাবে তোলপাড় রাজনীতি!

June 10, 2026
Reading...
তৃণমূল প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর ফের কি কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? সোনিয়া গান্ধির সাথে বৈঠকের পর দিল্লির রাজনীতিতে...
তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কি পুনরায় তাঁর পুরনো দল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করছেন? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে জাতীয় ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, দিনকয়েক আগেই সোনিয়া গান্ধির (Soniya Gandhi) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত গোপন ও একান্ত বৈঠক সম্পন্ন হয়। সেই আলোচনার পরেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অনুমান, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতেই হয়তো এই ধরণের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের একটি বড় অংশ—যার মধ্যে লোকসভা ও বিধানসভার বেশ কিছু সাংসদ এবং বিধায়ক রয়েছেন, তারা পৃথক একটি ব্লক গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে দলের প্রতীক চিহ্ন এবং তহবিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনাও তারা করতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন কিনা, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য দলবদলের জল্পনা ছড়াতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের কংগ্রেসে শামিল করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন। যদিও এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar)। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, "রাজনীতি হলো সম্ভাবনার শিল্প। তবে রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব এবং আদর্শকে সামনে রেখে যারা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হতে চান, তাদের আমরা সর্বদা স্বাগত জানাব। কিন্তু কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কংগ্রেসে কোনো স্থান নেই।"

অন্যদিকে, এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধে তিনি মন্তব্য করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পুনরায় কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন, তবে তা 'পুনঃ মুষিক ভব' প্রবাদটিকেই সত্য বলে প্রমাণিত করবে।"

আপাতত তৃণমূল সুপ্রিমোর এই সম্ভাব্য দলবদলের চর্চাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে যেমন তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে, তেমনই তৃণমূল ও কংগ্রেস—উভয় রাজনৈতিক শিবিরের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মনে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। এখন দেখার, আগামী দিনে এই জল্পনা কোন রাজনৈতিক মোড় নেয়।
Advertisement