নবম শ্রেণির শিল্পকলার পাঠ্যবইয়ে মহেঞ্জোদারোর 'ড্যান্সিং গার্ল' (Dancing Girl) বা নৃত্যরতা কন্যার পরিমার্জিত ছবি প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক।

সম্প্রতি নবম শ্রেণির শিল্পকলা বিষয়ক নতুন পাঠ্যপুস্তকে সিন্ধু সভ্যতার এই আইকনিক ভাস্কর্যটির ছবি ছাপা হয়। কিন্তু সেখানে দেখা যায়, মূর্তির নগ্ন ঊর্ধ্বাঙ্গে কালো শেডিং করে তা কৃত্রিমভাবে পোশাকের আদলে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। শালীনতা বা ‘মডেস্টি’-র দোহাই দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বকীয় আত্মবিশ্বাস ও সাবলীল ভঙ্গিমার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই মূর্তির স্বাভাবিক রূপকে আড়াল করার চেষ্টা হয়। আর এই পদক্ষেপ ঘিরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে।
এই ইস্যুতে দেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের একাংশ সরব হন। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে এনসিইআরটি-র এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ড্যান্সিং গার্লের মূল তাৎপর্য তার শারীরিক কাঠামোয় নয়, বরং তার অনন্য উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও ভঙ্গিমায়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগতের মুখোমুখি করানোই যদি শিক্ষার লক্ষ্য হয়, তবে নারীত্ব ও ইতিহাসের প্রতি এনসিইআরটি-র আরেকটু বেশি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল।
এদিন এই বিতর্ক চরমে পৌঁছালে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর দীনেশ সাকলানি জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ওই বিতর্কিত ছবি বাদ দিয়ে ভাস্কর্যের মূল ছবিটিকে পুনরায় যুক্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বইটির ডিজিটাল সংস্করণ (Digital Version) থেকে পরিমার্জিত ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগামী নতুন মুদ্রণে আসল ছবিটিই দেখতে পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লির জাতীয় জাদুঘরে (National Museum) সংরক্ষিত প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার উন্নত ধাতব বিদ্যার এই অসামান্য নিদর্শনটি গত কয়েক দশক ধরেই পাঠ্যবইয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল। এর শারীরিক গঠন নিয়ে কখনও কোনও অস্বস্তি তৈরি হয়নি। মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র অঙ্গ হিসেবে শিল্প ও সংস্কৃতিকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এনসিইআরটি এই নতুন বইটি প্রকাশ করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সূচনালগ্নেই এমন একটি বিতর্কের মুখে পড়া বড়সড় ‘ভুল’। যদিও শেষ পর্যন্ত আসল রূপ ফিরে পাওয়ায় ঐতিহ্যেরই জয় হল এবং নিজস্ব সত্তা ফিরে পেল ‘ড্যান্সিং গার্ল’।
Advertisement