মান্তাদাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারমুন্ডা মোড় সংলগ্ন নিম বন পার্কের পাশে নিম নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হল ফুলবাড়ির ২ স্কুলছাত্রের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ওই চার সহপাঠী একত্রে উক্ত অঞ্চলে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে নদী বক্ষে স্নানের জন্য নামার পরেই আচমকা প্রবল স্রোতের টানে গভীর জলে হারিয়ে যায় দুইজন। তাদের এই অবস্থা দেখে বাকি দুই সহপাঠী চিৎকার জুড়ে দিলে তড়িঘড়ি আশপাশের বাসিন্দারা অকুস্থলে ছুটে আসেন। পাশাপাশি, খবর পাঠানো হয় ভোরের আলো থানার পুলিশ প্রশাসন ও বনদপ্তরকে।
তৎক্ষণাৎ নির্দিষ্ট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ ও বনদপ্তরের কর্মীরা। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টার পর নদী থেকে ওই দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানা গিয়েছে, মৃত ওই দুই নাবালকের নাম কৃষ্ণ মণ্ডল এবং দীপ বিশ্বাস, যাদের উভয়েরই আনুমানিক বয়স ১৪ বছর। তারা ফুলবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিল। মৃত দুজনেই সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল বলে খবর। এর মধ্যে একজন শিলিগুড়ির রেলওয়ে হাই স্কুলের এবং অন্যজন বাল্মিকী হাই স্কুলের পড়ুয়া।
ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন মৃতদেহ দুটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এই গোটা ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তপন রায় ও লক্ষণ রায় এই প্রসঙ্গে জানান, সঠিক সময়ে স্কুলে রিপোর্ট করতে না পারায় ওই পড়ুয়াদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যার জেরেই তারা বাড়ি না ফিরে পারমুন্ডা সংলগ্ন অঞ্চলে ঘুরতে চলে আসে এবং স্নান করতে নেমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বাসিন্দাদের আরও দাবি, এই নির্দিষ্ট এলাকায় এর আগেও একাধিকবার এই ধরণের অঘটন ঘটেছে। ঠিক আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও একই কায়দায় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সে যাত্রায় ওই ব্যক্তি প্রাণে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। এমনকি প্রায় মাস দুয়েক আগেও এই একই জোনে আরও একজনের সলিল সমাধি হয়েছিল। যে কারণে এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের জোর দাবি তুলেছেন এলাকার আপামর জনসাধারণ।
স্থানীয়দের স্পষ্ট অভিযোগ, বহিরাগত প্রচুর মানুষ সহ বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক নাবালকরা এখানে প্রায়শই স্নান করতে আসে। তাদের অনেকেরই সাঁতারের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণেই বারবার এখানে এই ধরণের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আর সেই কারণেই প্রশাসনের কাছে অতি দ্রুত কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
Advertisement