আফগানিস্তানে এয়ার স্ট্রাইকে মৃত অন্তত ২৯, আহত শতাধিক

June 29, 2026
Reading...
করাচির সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলার চরম বদলা! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানে এয়ার স্ট্রাইক চালাল পাকিস্তান। টিটিপি কম্যান্ডার সহ নিহত..
শনিবার করাচির সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন চারজন পাকিস্তানি সেনা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে চরম প্রত্যাঘাত করল পাকিস্তান। রবিবার মাঝরাতে আফগানিস্তানের বুকে সরাসরি এয়ার স্ট্রাইক (Pakistan Airstrike) চালাল পাক সামরিক বাহিনী। এই ভয়াবহ হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনের প্রাণহানি এবং একশোর বেশি মানুষের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফ সরকারের দাবি, নিহতরা প্রত্যেকেই জঙ্গি। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লা তারার জানান, শুরুতে আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় স্থলপথে অভিযান চালায় পাকিস্তানি সেনা। সেখানেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার খান ফরোশ সহ মোট চারজন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। এরপরই আফগানিস্তানের কুনার, পাকতিয়া এবং পাকতিকা প্রদেশে থাকা বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে 'নির্ভুল হামলা' চালায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। এই সুনির্দিষ্ট হামলায় আরও ২৫ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একাধিক জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নষ্ট করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন আত্তাউল্লা। সমাজমাধ্যম X-এ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান সর্বদা শান্তিকামী হলেও দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না। তাঁর দাবি, এদিন এয়ার স্ট্রাইকে শুধুমাত্র টিটিপি-র ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এই গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, শনিবার করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইংয়ের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। শুরুতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে তারা এবং পরে শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। এর ফলেই মৃত্যু হয় চার সেনাকর্মীর। এই হামলার পিছনে টিটিপি-র মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান। বিগত কয়েক মাস ধরেই পাক সেনা ও পুলিশের ওপর লাগাতার জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে এবং এর পিছনে টিটিপি-র হাত রয়েছে বলেই দাবি শেহবাজ সরকারের।

পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২১ সালে আফগানিস্তানের শাসনভার তালিবানের হাতে যাওয়ার পর থেকেই সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। টিটিপি এবং তালিবান পৃথক হলেও তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি। কাবুলের তালিবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে বলে পাকিস্তান বারবার অভিযোগ তুললেও, বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে আফগানিস্তান।
Advertisement