আর্থিক প্রতারণা মামলায় ফের আইনি সংকটে অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। শাহিদ ইমামের অভিযোগের ভিত্তিতে...

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন টলিউড অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)। একটি আর্থিক প্রতারণার মামলার (Financial Fraud) পরিপ্রক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই বর্তমান রাজনৈতিক মহল এবং টলিপাড়ার অভ্যন্তরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সমগ্র ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২১ সালে। অভিযোগকারী অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম (শুভম)-এর দাবি অনুযায়ী, 'পাকা দেখা' নামক একটি চলচ্চিত্রে পুঁজি বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছিলেন সোহম চক্রবর্তী। শাহিদ ইমামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পারস্পরিক ব্যক্তিগত ও পেশাদারী সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সোহমকে ঋণ হিসেবে দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও সেই বকেয়া অর্থ আর ফেরত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আপোসের মাধ্যমে এই বিষয়টির নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চালানো হলেও, সোহম সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে শাহিদ ইমাম আইনের সাহায্য নেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) একটি মামলা রুজু করার পাশাপাশি কলকাতার চারু মার্কেট থানাতেও সোহমের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সূত্রের খবর, চারু মার্কেট থানায় দায়ের হওয়া সেই মামলা ও আদালতের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এবার সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি তথা বিধায়কের বিরুদ্ধে এমন কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সোহম চক্রবর্তী আগামী দিনে আইনের মুখোমুখি হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি তাঁর আইনি পরামর্শদাতারা এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন— তা নিয়ে বর্তমানে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এই বিষয়ে খবর বঙ্গ-এর পক্ষ থেকে সোহম চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
Advertisement