সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে প্রথম গ্রেপ্তার! মুচিপাড়া থানায় মামলার পর বর্ধমান থেকে পাকড়াও পরিতোষ দত্ত

June 04, 2026
Reading...
সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অস্ত্র ও টাকা উদ্ধারকাণ্ডে বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার দেবাশিস ন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ভেন্ডার পরিতোষ দত্ত।
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (Surendranath College) বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করল কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা (Anti-Rowdy Squad)। এই ঘটনার সূত্র ধরে বর্ধমান থেকে পরিতোষ দত্ত (Paritosh Dutta) নামক এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ওই ব্যক্তি কলেজের গভর্নিং বডির অন্যতম সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভেন্ডার হিসেবে পরিচিত বলে কলেজ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে আচমকাই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবে গোটা শিক্ষা মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে কলেজ থেকে শুধুমাত্র যে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তা নয়, এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই সামগ্রিক ঘটনার পর মুচিপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা সেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিতোষ দত্ত— এই দুই ব্যক্তির নামে মামলা রুজু করেন।

পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় উঠে এসেছে যে, ধৃত পরিতোষ দত্ত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বিভিন্ন ধরণের সামগ্রী সরবরাহের (ভেন্ডার) কাজ করতেন। কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুগভীর ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে কলেজ সূত্রে দাবি। কলেজ চত্বর থেকে বিপুল টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পর থেকেই কলেজের ভেতরকার একাংশের ভূমিকা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সেই সমস্ত সূত্র ধরেই এই গ্রেপ্তারি চালানো হয়েছে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, কলেজের অন্দরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে এই অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বর্ধমান থেকে পরিতোষকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর, তাঁকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ টাকা ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে আর কোন কোন ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এর পাশাপাশি, এই পুরো ঘটনায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়েও সমান্তরালভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা (Anti-Rowdy Squad)।
Advertisement