নবান্ন বৈঠক বনাম দিল্লি সফর: নতুন ৩৫ মন্ত্রীর শপথের পরেই হঠাৎ কেন রাজধানীতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

June 02, 2026
Reading...
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার বড় সম্প্রসারণ। লোকভবনে শপথ নিলেন ৩৫ জন নতুন বিজেপি মন্ত্রী। কে পাচ্ছেন অর্থ, স্বরাষ্ট্র বা শিক্ষা দফতর?
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১ জুন সম্পন্ন হলো মন্ত্রিসভার মেগা সম্প্রসারণ। সোমবার সকালে কলকাতার লোকভবন চত্বরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করলেন মোট ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিন্হা সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পরিবেশন করা হয়। সকাল থেকেই গোটা লোকভবন এলাকা সাজো সাজো রবে মুখরিত ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রশাসনিক বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

১ জুন নতুনভাবে যে ৩৫ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন, তার মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী পদে রয়েছেন ১৩ জন। অন্যদিকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৩ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ১৯ জন শপথ গ্রহণ করেছেন। Suvendu Adhikari Cabinet-এর এই রদবদলে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গ— রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তেরই ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। যেখানে একদিকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখকেও।

বিজেপি সরকারের নতুন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা শপথ নিলেন তাঁরা হলেন— শঙ্কর ঘোষ, তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অর্জুন সিংহ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, মনোজ কুমার ওরাওঁ, দীপক বর্মন, অরূপ কুমার দাস, অজয় কুমার পোদ্দার, কল্যাণ চক্রবর্তী এবং দুধকুমার মণ্ডল। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ইন্দ্রনীল খাঁ, মালতী রাভা রায় ও রাজেশ মাহাতো। এ ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, আনন্দময় বর্মন, অশোক দিন্দা, নাদিয়ার চাঁদ বাউড়ি, বিশাল লামা, শান্তনু প্রামানিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, উমেশ রাই, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, কৌশিক চৌধুরী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি, অমিয়া কিস্কু, কলিতা মাজি, গার্গী দাস ঘোষ, বিরাজ বিশ্বাস, দীপঙ্কর জানা এবং সুমনা সরকার।

উল্লেখ্য, বিগত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর সাথে ৫ জন পূর্ণমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর থেকেই আমজনতা ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল কৌতুহল ছিল যে, কবে রাজ্যের এই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘটবে। অবশেষে সোমবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনকে কেন্দ্র করে। অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ত, কৃষি এবং শিল্প— এই সমস্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক কার কার হাতে যাবে, সেদিকেই এখন কড়া নজর রয়েছে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের। এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত শোনা যাচ্ছে। একটি মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন আজই দফতর বণ্টন সেরে ফেলতে পারেন। আবার অন্য সূত্রে খবর, দফতর বণ্টনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে বুধবার।

শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই নতুন মন্ত্রীদের নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন সরকারের যাবতীয় কাজকর্ম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের আগামী দিনের কাজের নির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। তবে এর বিপরীতে অন্য সূত্রে খবর, আজ নবান্নে কোনও বৈঠক হচ্ছে না, বরং শপথ নেওয়ার পর নতুন মন্ত্রীরা সরাসরি বিধানসভা অভিমুখে রওনা হয়েছেন।

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর। মন্ত্রিসভার এই মেগা সম্প্রসারণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অর্থাৎ মঙ্গলবারই ঝটিকা সফরে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিলেও এখনও দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি, আর সেই আবহেই রাজধানীতে বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেন্দুর এই বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক শীর্ষ স্তরের কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। সেখানে মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন এবং সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে কথা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লিতে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, যদিও ওই নির্দিষ্ট বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
Advertisement