২১শে জুলাইয়ের সভা ঘিরে তরজা! পুলিশের ছাড়পত্র পেলেন ঋতব্রত, হাইকোর্টের দ্বারস্থ কালীঘাট

July 12, 2026
Reading...
২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ (21 July Shahid Diwas) ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি পেল না কালীঘাট শিবির।
জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ (21 July Shahid Diwas) নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝে এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে অনায়াসে সভার অনুমতি দেওয়া হলেও লালবাজারের তরফে ব্রাত্যই রাখা হয়েছে কালীঘাট শিবিরকে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মতলায় সভার জট ছাড়াতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আদালতের রায়ের দিকেই।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ২১শে জুলাই ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুবিশাল জমায়েত একটি পরিচিত ছবি। তবে, রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বদলে গিয়েছে প্রশাসনিক সমীকরণ। জানা গিয়েছে, পুলিশি টালবাহানার কারণে এবার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কালীঘাট শিবির সভার অনুমতি পায়নি। উলটে ওই জায়গা মাপতে যাওয়ায় কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনের নামে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। তবে তৃণমূল নেত্রী আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অনুমতি না মিললেও প্রয়োজনে অল্প সংখ্যক কর্মী ও সমর্থকদের নিয়েই শহিদ দিবস পালন করবেন তিনি।

অন্যদিকে, পুলিশের সবুজ সংকেত মেলায় মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু করে দিয়েছে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। জানা যায়, শনিবার কলকাতা বোটিং ক্লাবে দলীয় বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পর উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত জানান, তাঁরা পুলিশের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, তাঁদের আপাতত প্রথম রাজনৈতিক লক্ষ্য হল ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন করা। সেইমতো ধর্মতলার জওহরলাল নেহরু রোডে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে এই কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনের কার্যকলাপে বিরাট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একই দিনে সমতুল্য কর্মসূচির জন্য নতুন বিরোধী দলনেতার শিবির যেখানে সহজেই মেয়ো রোডে সভার অনুমতি পাচ্ছে, সেখানে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী স্থানে সভার জন্য আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে কালীঘাটকে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে বিধায়কদের পাল্লা ভারী। তবুও প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, ওদের কাছে ৬০ জন আর তাঁদের কাছে ২০ জন বিধায়ক থাকতে পারে, তবে বাংলার ৪১ শতাংশ মানুষের সমর্থন এখনও তাঁদের দিকেই রয়েছে। এমতাবস্থায় পুলিশের থেকে অনুমতি না পাওয়ায় হাইকোর্টই এখন কালীঘাট শিবিরের শেষ ভরসা। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার জন্য আদালত কালীঘাট শিবিরকে শেষমেশ অনুমতি দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
Advertisement