২৮ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ কী? অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন 'এডিট অপশন' আনল সমাজকল্যাণ দপ্তর।

July 10, 2026
Reading...
অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার্স— কারা পাবেন না টাকা?
রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সুবিধা প্রকৃত অর্থে কারা পাবেন, তা নিয়ে গত দু'মাস ধরে আমজনতার মধ্যে প্রবল ধোঁয়াশা ছিল। তবে বুধবারের একটি পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই বিষয়ে নতুন নিয়মাবলি ও শর্ত একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছে। মূল নির্দেশিকায় কেবলমাত্র সরকারি চাকরিজীবী বা আয়করদাতাদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখার কথা বলা হলেও, নতুন নিয়মে অঙ্গনওয়াড়ি, আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পার্শ্বশিক্ষকদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি খাত থেকে কোনও রকম পারিশ্রমিক বা সাম্মানিক পেলেই সংশ্লিষ্ট মহিলা আর এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না।

পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে, পেনশনভোগী হলে বা আয়করদাতা হলেও আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি, পরিবারে কারও জিএসটি (GST) আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকলে, তিনটি পাকা ঘর বা ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিকানা থাকলে আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি গিয়ে যাচাই করবেন এবং তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর ফলে, বিক্ষোভের কারণে নতুন করে যাচাইয়ের মুখে পড়া ২৮ লক্ষ আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। কারণ, এই কড়া শর্তগুলো এখন তাঁদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে চলেছে।

এদিকে, এই নতুন নির্দেশিকায় চরম বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁদের অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকে গিয়েছিল, যা এখন ফেরত চাওয়া হচ্ছে। রাজ্যে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৭৫ হাজার আশাকর্মী রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে কর্মীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে তাঁরা ১ হাজার ৫০০ টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া সহ নানা জেলা থেকে কর্মীরা তাঁকে ফোন করে জানাচ্ছেন যে, বিডিও (BDO) অফিস থেকে তাঁদের টাকা না নেওয়ার কথা কাগজে লিখে জমা দিতে এবং টাকা ফেরত দিতে বলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ায় তাঁরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

তবে আটকে থাকা আবেদনগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর একটি 'এডিট অপশন' (Edit Option) চালু করেছে। তথ্যে ভুল থাকলে জেলা আধিকারিকদের সাহায্যে পোর্টালে ঢুকে তা সংশোধন করা যাবে। দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে আধিকারিকদের সুপারিশপত্র আপলোড করা বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি, তবে সই ও সিল দেওয়া নথির হার্ড কপি সংরক্ষণ করতে হবে। যাচাইয়ের কাজে গতি আনতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনে সিডিপিও, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশাকর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং ইচ্ছুক বিএলও-দের কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া সমস্ত আবেদনের যাচাই পর্ব শেষ করে যোগ্যদের তালিকাভুক্তি এবং অফলাইন আবেদনগুলির ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে প্রশাসনকে।
Advertisement