নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন। পাশে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি...

পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের স্বার্থে নিজের জীবন বিপন্ন করার জন্য ওয়াংচুককে স্যালুট জানান আপ সুপ্রিমো। পাশাপাশি, ২০১১ সালের অন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই যন্তর মন্তরেই একসময় তিনিও ধর্নায় বসেছিলেন, যা গোটা দেশ জানে। কেন্দ্রকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ওয়াংচুকের দাবি মানা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Narendra Modi) নিশানা করে কেজরিওয়ালের দাবি, গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দিতে পারে এমন কোনো বড় পরিবর্তনের সূচনা হওয়ার ভয়েই প্রধানমন্ত্রী এখন ভীত।
জানা গিয়েছে, নিট কেলেঙ্কারির দায়ভার নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সিজেপি (Cockroach Janta Party) কর্মী ও সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন। অতীতে লাদাখের অধিকারের জন্য অনশনের পর এবার দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন কেজরিওয়াল। তিনি জানান, দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (competitive exams) প্রস্তুতি নেয়। নিজেদের মেধার ওপরই তারা ভরসা রাখে। কিন্তু বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সেই বিশ্বাস ভেঙে দিচ্ছে, যা গোটা দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নিজের আইআইটি (IIT) প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর দুই সন্তানের একই প্রতিষ্ঠানে পড়ার কথা উল্লেখ করে এই পরীক্ষাগুলির অপরিসীম গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এদিন তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে এবং আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছেও আহ্বান জানিয়েছেন আপ সুপ্রিমো। প্রতিবাদ মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করেন। পাশাপাশি কটাক্ষের সুরে তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রীকে যদি সরানো হয়, তবে নতুন করে ফের যেন স্মৃতি ইরানিকে ওই পদে ফিরিয়ে আনা না হয়। যন্তর মন্তরের এই অনশন আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। এখন আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে মোদী সরকার ঠিক কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকেই কড়া নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
Advertisement